রাসুল সা. আসার আগে মানবসভ্যতা এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সর্বত্রই ছিল বিভ্রান্তি, অন্যায় ও পৈশাচিকতা। এ সময় আল্লাহ তাআলা এক মহামানব পাঠালেন, যিনি কেবল একজন নবি নন; বরং আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, পরিশুদ্ধ মানুষ গড়ার কারিগর এবং শাশ্বত ঐশী সভ্যতার নির্মাতা।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে রাসুল সা. মূর্খ আরবসমাজের অন্তর, মনন ও জীবনযাপনের প্রতিটি পরতে শক্তিশালী মৌলিক বিপ্লব এনে দেন। কীভাবে তিনি মক্কায় দীর্ঘ দাওয়াতি কার্যক্রম, মদিনায় ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রণয়ন, সমর অভিযান, আত্মশুদ্ধি ও শিক্ষার মধ্য দিয়ে একটি তাকওয়াভিত্তিক সমাজ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। আসমানি নির্দেশনার আলোকে তুলে ধরেন বিস্তর ও বাস্তবিক পথরেখা, যার সূত্র ধরে একেকজন মূর্খ ও দাম্ভিক ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন ন্যায়ের ধারক; একেকটা গোত্র হয়ে উঠেছিল পুরোদস্তুর উম্মাহ।
নবিজির উম্মাহ ও রাষ্ট্র গঠন নামক এ গ্রন্থটি সিরাতচর্চার গতানুগতিক ধারা থেকে ভিন্ন। এটি নিছক ঘটনাপুঞ্জের বর্ণনা নয়; বরং নবিজি কীভাবে একটি অধঃপতিত জাতিকে এক আদর্শ রাষ্ট্র ও অনুপম উম্মাহ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, তার প্রকৃত অনুসন্ধান। লেখক এখানে দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে মক্কার গোপন দাওয়াতি কার্যক্রম, মদিনার ভ্রাতৃত্ব, বদর-উহুদের ত্যাগ-তিতিক্ষা, হুদায়বিয়ার কূটনীতি, মদিনা সনদ ও বিদায়হজের ভাষণের মধ্য দিয়ে ইসলাম বিশ্বের চূড়ান্ত রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
এই গ্রন্থ বিশ্বমানবতার সামনে একটি মৌলিক ঘোষণা দেয় যে, রাষ্ট্র টিকে থাকে ইনসাফে, আর উম্মাহ গড়ে ওঠে আল্লাহভীতি, ভ্রাতৃত্ব ও দাওয়াহর ভিত্তিতে। তাই এ গ্রন্থ নিছক ইতিহাস নয়; বরং এটি উম্মাহর জন্য নিবেদিত এক মলাটবদ্ধ নির্দেশনামা। যারা দিনে দিনে নেতৃত্বহীনতা, আত্মবিস্মৃতি ও বিভক্তির গহ্বরে হারিয়ে গেছে, তাদের জন্য এটি আত্ম-পুনরুদ্ধারের সুনিপুণ মানচিত্র।







Reviews
There are no reviews yet.
Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.