Sale!

সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির

লেখক:
সম্পাদক:

আবদুর রশীদ তারাপাশী

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

কোয়ালিটি:

হার্ডকভার

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

২৪০

প্রচ্ছদ:

মুহারেব মুহাম্মাদ

প্রকাশকাল:

ডিসেম্বর ২০২০

ISBN:

978-984-96712-3-7

ক্যাটাগরি:
রেটিং:
(4 customer reviews)

৳ 262

SKU: 41

১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের যুদ্ধে ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করে সম্রাট বাবরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুস্থানের ইতিহাসে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী সাম্রাজ্য—ইতিহাসের পাতায় যা ‘মোগল সাম্রাজ্য’ নামে চির ভাস্বর হয়ে আছে। তৈমুরের বংশোদ্ভূত এ মোগলদের হাতেই তদানীন্তন সময়ে জ্ঞানবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা-দীক্ষা ও সমরবিদ্যা—এককথায় সবকিছুতেই উন্নতি ও সমৃদ্ধির শীর্ষ শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল হিন্দুস্থান।
বাবর, হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের পর সালতানাতের বাগডোর হাতে নিয়েছিলেন এই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ, বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও আলোচিত শাসক সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির—যিনি দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে সুদীর্ঘ ৫১ বছর সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি এ ন্যায়পরায়ণ সুলতানেরই বর্ণাঢ্য শাসনামলের ঐতিহাসিক ধারাভাষ্য। জন্ম, বেড়ে ওঠা ও সিংহাসনে আরোহণের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর ‘জিহাদি- জীবন’-এর প্রতিটি অধ্যায় এতে আলোচিত হয়েছে। বাঙলার কট্টর হিন্দুসম্প্রদায়, আফগানের খাইবার ও আফ্রিদি গোত্রসমূহ, সৎনামি, জাট আর রাজপুতদের বিদ্রোহ দমনসহ প্রাসঙ্গিক সব আলোচনা স্থান পেয়েছে। ইতিহাসের এ মজলুম সুলতানের ওপর উত্থাপিত সব অভিযোগ নিয়েও সরল আলোচনা করা হয়েছে। ধুলোবালি ঝেড়ে আড়ালে থেকে যাওয়া বাস্তবতাগুলো সামনে আনা হয়েছে। সর্বোপরি সুলতানের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণও বাদ যায়নি।

লেখক:
সম্পাদক:

আবদুর রশীদ তারাপাশী

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

কোয়ালিটি:

হার্ডকভার

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

২৪০

প্রচ্ছদ:

মুহারেব মুহাম্মাদ

প্রকাশকাল:

ডিসেম্বর ২০২০

ISBN:

978-984-96712-3-7

ক্যাটাগরি:
রেটিং:
(4 customer reviews)

4 reviews for সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির

  1. Abdu rahman (verified owner)

    বিসমিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। আস—সালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ।

    ‘আওরঙ্গজেব’ নামটা মুখস্থ করতে আমার বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। নামটা কেমন অন্যরকম লাগতো। আবার যাদের থেকে শুনতাম, তাঁরা স্পষ্ট করে নামটা বলতেও পারতো না।
    ইতিহাস আমি পড়তাম কম, তাই এই নাম শুনেছিও কম।

    এক সময় ইতিহাসের প্রতি আমার একটু আগ্রহ জাগে। এটা আমার জন্য অনেক ব্যাতিক্রম একটা অধ্যায় ছিলো। আমি একসময় ইতিহাসকে কঠিন ভেবে দূরে সরিয়ে রাখতাম, অথচ আমার অন্তরেই এক সময় ইতিহাসের প্রতি মহব্বত জাগে।

    যাকগে সেসব। আওরঙ্গজেবের সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় লোকমুখে শুনে। সেসব লোক-কথা শোনার পর এবং টুক-টাক ইতিহাস পড়ার পর এখন বলা যায় বাংলাদেশের মানুষেরা আওরঙ্গজেবকে বিচার করার ক্ষেত্রে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত।

    ১ম ভাগ; এরা একপেশী দৃষ্টিতে আওরঙ্গজেবকে দেখেছে। পাশ্চাত্যবাদি ইতিহাসবিদ, কিংবা হিন্দুত্ববাদি ইতিহাসবিদ অথবা এক কথায় বলা যায় ইসলামের ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এমন ইতিহাসবিদদের গুরু মনে করে এরা।
    তাঁদের গুরুরা তাঁদেরকে শুকনো মল এনে দিলে সেটাকেও স্বর্গীয় বিস্কুট ভেবে গোগ্রাসে গিলবে এরা।
    এহেন দৈন্যতার ফল স্বরূপ এরা আওরঙ্গজেবকে সবসময় দেখাতে চেয়েছে রাক্ষষ, রক্তলোলুপ, ক্ষমতালোভী, কাপুরুষ হিশেবে।

    মুহতারাম আব্দুর রশীদ তারাপাশী (হাফি.) বলেন,
    ‘গোলামি একটা মারাত্মক অভিশাপ। গোলামি মানুষের হৃদয়ের উদারতা, মানবিক সৌকর্য, উন্নত চরিত্র, মার্জিত আচরণ, কথাবার্তার শালীনতা— সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।
    ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দুরা হাজার বছরের গোলাম জাতি। ৮০০ বছর মুসলমানদের এবং ২০০ বছর ব্রিটিশদের গোলামির ফলে মারা গেছে ওদের মানবতাবোধ। তাই উপকারীর ঘাড়ে লাথি মারার মতো যে মুসলমানরা তাদের দিয়েছিল সমৃদ্ধি ও জীবনের নিশ্চয়তা, আজ তারা সেই মুসলমান— বিশেষ করে তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলমগিরকে উপস্থাপন করে থাকে রক্তলোলুপ বাদশাহ হিসেবে। তাঁর শাসনামলের সোনালি অধ্যায়কে কলঙ্কিত করার আপ্রান চেষ্টা করে’
    [আলোচ্য গ্রন্থের ফ্ল্যাপ থেকে]

    যদিও এখানে উপমহাদেশের হিন্দুদের কথা বলা হয়েছে। তবে আমার দৃষ্টিতে প্রথম এই দলটিও একই শ্রেণীর।

    ২য় ভাগ; এরা হলো মধ্যমপন্থি বা নিরপেক্ষ।
    এরা আওরঙ্গজেবকে নেগেটিভ—পজেটিভ দুভাগে ভাগ করে।
    তাঁর শাসনকে এরা কল্যাণকর মনে করে। পক্ষান্তরে সিংহাসনের জন্য ভাইয়ের সাথে যুদ্ধে নামাকে তাঁরা ক্ষতিকর হিশেবে দেখে। এদের এই নেগেটিভ-পজেটিভ ধারনা রয়েছে আওরঙ্গজেবের পুরো জীবনকে নিয়েই।
    প্রথম ভাগের লোকেরা যেমন যা পায়, তা অন্ধের মত খায়; এই ভাগের লোকেরা তেমন যা পায়, তা যাচাই—বাছাই করে খায়। পার্থক্য কেবল এটুকুই।
    আবার এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াতেও এরা অনেক সময় ভুল করে। আর এসব কারণে একটা সময় এরা চাইলেও আর নিরপেক্ষ থাকতে পারে না।

    আওরঙ্গজেবের নামে অনেক অপবাদের একটি হলো, আওরঙ্গজেব শাসনের নামে অমুসলিমদের ওপর শোষন বেশি করেছেন। এই অপবাদটিকে প্রথম শ্রেণী এবং দ্বিতীয় শ্রেণী উভয়েই কম বেশি বিশ্বাস করে।

    ৩য় ভাগ; মুসলিমরা। এরা আওরঙ্গজেবকে বিচার করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র খুঁজে বের করে এবং এরপর সার্বিক বিবেচনার পর স্বীকার করতে বাধ্য হয়— আওরঙ্গজেব মোগল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালি সম্রাট। আওরঙ্গজেব মোগল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে মহানুভব, দয়ালু, উদার সম্রাট।

    ইতিহাস এটা স্বীকার করতে বাধ্য যে, আওরঙ্গজেব ক্ষমতার লোভে নয়, বরং দ্বীন ইসলামের স্বার্থেই সিংহাসনে বসেছিলেন।

    আওরঙ্গজেবকে নিয়ে আমার আগ্রহেরও কোন কমতি ছিলো না।
    একবার এক লোকের সাথে কথায় কথায় জানলাম আওরঙ্গজেব নাকি ক্ষমতার জন্য ভাইয়ের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সেই থেকেই আমার এই সুলতানের প্রতি আগ্রহ।
    এখানে বলে রাখা ভালো— সেই লোকটি ছিলেন অনার্সের ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ বিষয়ের ছাত্র এবং সে দাবি করেছিলো এসব তথ্য তাঁরা একাডেমিক বইগুলোতেই পেয়েছে।
    (বোঝেন তাহলে বিষ কোন জায়গা থেকে প্রয়োগ করা হয়!)

    যাই হোক, ইতিহাস পড়তে গিয়ে একটা ছোট বই হাতে তুললাম। ‘ما ذا خسر العالم بانحطاط المسلمين’ গ্রন্থের সরল অনুবাদ ‘মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো?’ বইটি। লেখক প্রিয় আলী মিয়া। অনুবাদক আরেক প্রিয় আদিব হুযুর।
    যারা এটি পড়েছেন, তাঁরা জানেন এর লেখাগুলোর মূল্য কত! আর যারা পড়েন নি তাঁদের জন্য আফসোস…।
    সংক্ষীপ্ত অথচ পরিপূর্ণ ইতিহাসকে এমন আন্দোলনী ভাষায় আলী মিয়া ছাড়া আর কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এ বইয়ে লেখক হৃদয়ের জযবার সাগরের তরঙ্গমালাকে স্তরে স্তরে প্রকাশ করেছেন।

    এ বইয়ের সাহায্যেই আমি সর্বপ্রথম আওরঙ্গজেবকে এত কাছ থেকে দেখতে পেলাম।
    ভেঙে গেলো সকল ভুল ধারণা। খুলে গেলো সকল সমস্যার জট।
    সোজাসুজি মনকে বলে দিলাম, খবরদার প্ররোচনায় আর কখনও টলে যেও না।

    এরপর টুকিটাকি খুঁজি আওরঙ্গজেবকে নিয়ে কিছু মৌলিক কাজ। সত্যি বলতে আমাদের দেশে ইতিহাস নিয়ে মৌলিক কাজের সংখ্যা বড়ই বিরল। আবার আমাদের পাঠকেরাও সেই শ্রেণীরই।

    খোঁজাখুঁজি করে যখন পড়ার মত কোন বই ই পাই না, তখন হঠাৎ খবর পেলাম মহব্বতের ‘কালান্তর’ মোগল সিরিজের ৬ষ্ঠ বই প্রকাশ করতে চলেছে। আমি ভাবলাম তাঁরা ৬ষ্ঠ বই বের করুক। তাঁর আগে আমি আমি বাকি ৫টা পড়ে নিই।
    কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম— সে আশায় গুড়েবালি।
    এটা যদিও এই সিরিজের ৬ষ্ঠ বই, তবুও এটাই এই সিরিজের প্রকাশ হতে যাওয়া প্রথম বই।

    ইনটেনশনে একা একা বিড়বিড় করলাম শুধু। অপেক্ষা করলাম। অপেক্ষার এ প্রহর শেষ হলো। কালান্তর রাজাগিরি করার সুযোগ দিলো, আমি রাজাগিরি করে দিলাম। আওরঙ্গজেবকে দিয়েই শুরু করলাম এবারের পাঠ।

    প্রচ্ছদ যে ব্যাক্তি করেছে, তাকে আমি চিনি। আর তিনি সর্বদাই প্রচ্ছদে বাজিমাত করেন বলেই জানি। লিখেছেন ফাহাদ আব্দুল্লাহ। পরিচিত নাম হলেও এ ক্ষেত্রে তিনি নতুন। কারণ এটা তাঁর প্রথম মৌলিক গ্রন্থ। কাগজে— বাধাইয়ে নির্দ্বিধায় একশ একশ নাম্বার।

    তো আসা যাক মূল কথায়। মূল কথা হলো লেখনী!
    কেমন ছিলো লেখনী? বর্ণনাগুলো কতটা প্রাঞ্জল ছিলো? নতুন লেখক হিশেবে কেমন চালিয়েছেন তিনি কলম?
    আমাকে এক কথায় বলতে হবে— প্রথমবার আমি বাংলা ভাষায় কোন মৌলিক গ্রন্থ পড়লাম এবং সেটাও আবার সাল্লাবি পড়ার ফিলিংস নিয়ে। আমি কয়েক বার মলাটের দিকে তাকিয়ে লেখকের জায়গায় সাল্লাবির নামটা খুঁজেছিলাম।
    মাশাআল্লাহ, লেখকের জন্য অন্তর থেকে দোয়া এসেছে। যদিও, এটা চাহিদা অনুযায়ী এতটা বিস্তৃত পরিসরের লেখা নয়, কিন্তু এটা একটা সূচনা। আর এমন সূচনা মোটেও ছোট করে দেখার মত নয়।

    আমাদেরকে এটা মাথায় রাখতে হবে যে, এ ধরণের কাজ করার অর্থ এমনিতেই স্রোতের বিপরীতে হাঁটা। কারণ এ দেশে যেখানে আওরঙ্গজেবকে দেখানোই হয় ভিলেন হিশেবে— এমনকি একাডেমি পর্যায়ে পর্যন্ত তাকে নেতিবাচক চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়, সেখানে এমন ব্যাতিক্রম কাজটা করাই তো একটা সাহসীকতা।
    সেক্ষেত্রে এ কাজের কমতি যদি থাকেও, তবুও এটা একটা সূচনা। এই সূচনা এক সময় আমাদেরকে আরো বড় কিছুর সামনে নিয়ে যাবে।

    বইটি ৫টি অধ্যায়ে বিভক্ত। আর আলোচনার ভঙ্গি এবং ভাষা বড়ই সাবলীল। লেখক যেন আওরঙ্গজেব বিষয়ে পাঠককে সামনে নিয়ে দারস দিচ্ছেন, এমন একটা ভাব। আর বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে লেখক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তথ্যসূত্রগুলোর দিকে পাঠককে মনোনিবেশ করতে বলেছেন। তবে যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, সেখানে ততটুকু বিশ্লেষণও করেছেন।

    তথ্য নেয়া হয়েছে। রশিদ আখতার নদবি, শিবলি নোমানী, আসলাম রাহি এবং যদুনাথদের বই থেকে। এদের পাশাপাশি আরো অনেক বই থেকেই তথ্য নেয়া হয়েছে।

    সুলতানের জীবনকে বইটিতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এবং বর্ণনাভঙ্গির ক্ষেত্রে আবারও সেই একই কথা বলতে হবে— সাল্লাবি টাইপ।

    অন্যদিকে লেখক সুলতানের বাকি তিন ভাই(দারাশিকো, শূজা, মুরাদ)। তাদের কাজ—কর্ম এবং সেসবের পরিণতি ইতিহাসের আলোকে বেশ ভালোই ব্যখ্যা করেছেন। সম্রাট শাহজাহানকে নিয়েও করেছেন কিঞ্চিত আলোচনা।

    এরপর সুলতান আওরঙ্গজেবের শাসনামলে হওয়া বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিদ্রোহের বর্ণনা দিয়েও কলম চালিয়েছেন।
    এবং আরও অনেক কিছু।

    বইটি পড়ার মাধ্যমে আরো বিখ্যাত কিছু মানুষ সম্পর্কেও টুকটাক অনেক কিছু জানলাম যেমন— শায়েস্তা খান, বাহাদুর শাহ, শিবাজি এবং এমন আরো কিছু ব্যাক্তি সম্পর্কে।

    হ্যা, কিছু কমতি, সে তো ছিলোই।
    তবে ঐ যে বললাম না, এটা তো সবে সূচনা। সামনে আরো বড় কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।

    [ শেষ কথা; আওরঙ্গজেবকে নিয়ে আমি কোথায় যেন একবার একটা লেখা পড়েছিলাম। সেটা পড়ার পর আমি তাকে জানতে সবচে বেশি উদগ্রীব হই। সেই লেখাটির সারমর্ম ছিলো এমন— বাদশাহ আওরঙ্গজেব ছিলেন খুবই সময় সচেতন মানুষ। তিনি বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করতেন না। তিনি যখন গোসল করতে যেতেন, তখনও নিজের খাদেমকে দিয়ে তাঁর সামনে কিতাব মেলে রাখাতেন৷ ]

    বইঃ আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখকঃ ফাহাদ আব্দুল্লাহ
    প্রকাশকঃ আবুল কালাম আজাদ
    প্রকাশনীঃ কালান্তর প্রকাশন
    প্রচ্ছদঃ আবুল ফাতাহ
    কলেবরঃ ২৩৮
    মলাট মূল্যঃ ৩০০

  2. Eyahia islam

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    বই:আওরঙ্গজেব আলমগীর
    ধরণ: ইতিহাস ঐতিহ্য ও ইসলামিক
    ব্যক্তিত্ব
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রচ্ছদ:আবুল ফাতাহ
    সম্পাদক: আবদুর রশীদ তারাপাশী
    প্রকাশনীঃ কালান্তর প্রকাশনি
    প্রথম প্রকাশ: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৭
    মুদ্রিত মূল্য: ৩০০

    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগীর- মোঘল সাম্রাজ্যের আকাশে জলন্ত এক মহান সুলতানের নাম। সুলতানের নাম জানেনা এরকম মানুষ বাংলার মাটিতে নেই বললেই চলে। ‘ফাতওয়ায়ে আলমগিরি’ বিখ্যাত মাসআলা ভিত্তিক গ্রন্থ যার আদেশে যোগ্য আলেমদের নিয়ে রচিত হয়। সুলতানের নামে রচিত আছে খলনায়কের ইতিহাস। তার শাসনামলের সোনালী অধ্যায়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করে ইংরেজদের পা চাটা কিছু হিন্দু ইতিহাসবিদরা।
    বর্তমানে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ মহান সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগীর নামক মৌলিক গল্প ভিত্তিক বইটিতে তিক্ষ্ণ মেধা খাটিয়ে ইতিহাসের চরম বাস্তবতা ও সব অভিযোগের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

    পাঠ প্রতিক্রিয়া : লেখক আওরঙ্গজেব আলমগীর _এর জীবনকে কেন্দ্র করে বইটিতে যে ঐতিহাসিক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, সেখানে উঠে এসেছে সুলতানের জন্ম বেড়ে ওঠা এবং সিংহাসনে ওঠার প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমৃত্যু পর্যন্ত , তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে প্রতিটি অধ্যায়ে হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এবং আলোচনা করা হয়েছে এই মহান সুলতানকে নিয়ে আনিতো সব মিথ্যা অভিযোগ সম্পর্কে। তাই আসুন, আওরঙ্গজেব আলমগীর ইতিহাসে ডুব দিয়ে সত্য সন্ধানী হয়ে উঠি।
    ফাহাদ আবদুল্লাহ “সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগীর ”
    বইটির মাধ্যমে পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছেন। এমন একটি বই পাঠকদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য ,পাঠকরা তার কাছে কৃতজ্ঞ । আল্লাহ তাকে উত্তম জাযা দান করুন। সেই সাথে কালান্তর প্রকাশনীর জন্যও রইল অজস্র শুভ কামনা।

  3. MD. SAIDUL ISLAM (verified owner)

    “দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার”

    ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দীর্ঘমেয়াদি মুসলিম শাসনব্যবস্থা ছিল মোগল সাম্রাজ্য। ভাষা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, স্থাপত্য, পোশাক অথবা খাবার-দাবার প্রতিটা বিষয়েই মোগলদের অবদান অনস্বীকার্য। সম্রাট বাবরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই সাম্রাজ্যের। বাবর, হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির। তিনি সুদীর্ঘ ৫১ বছর সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও আলোচিত শাসক। মোগল সম্রাট হিসেবে আওরঙ্গজেবের শাসনা আমলে বিভিন্ন যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার লাভ করে। সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন কাটিয়েছেন। তিনি টুপি এবং নিজের হাতের লিখা কুরআন বিক্রি করতেন আর রাজ্যের সম্পদ স্পর্শ করতেন না। তার আমলে তার পূর্বসূরীদের তুলনায় মোগল প্রশাসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক হিন্দু কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছিল। মহান এই শাসক তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক সাহসিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। হাতির সাথে একাই লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার পর যখন তাঁর পিতা শাহজাহান তাঁর দুঃসাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন তখন আওরঙ্গজেব বলেন-

    “এই লড়াইয়ে যদি আমি মরেও যেতাম, তথাপি ভীত হয়ে পালানোর চেয়ে ভালোই ছিল। এটা আমার গৌরবের মৃত্যুই হতো।”

    মোগল সাম্রাজ্যের মহানায়ক, মহান সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরকে নিয়ে ইংরেজদের গোলাম কিছু ইতিহাসবিদ নানা অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের সেই অপবাদের জবাব আর মহান এই নেতার জীবনী বাংলায় খুব একটা পাওয়া যায় না। তরুণ লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ তাঁর বইয়ে চেষ্টা করেছেন এই মহান সুলতানের জীবনী তুলে ধরতে। যা কালান্তর প্রকাশনী থেকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।

    বইটি যেভাবে সাজানো-

    লেখক বইটিকে পাঁচটি অধ্যায় ও প্রতিটি অধ্যায়কে বেশ কিছু পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন।
    লেখক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে সকল দিক আলোচনা করেছেন।

    ১ম অধ্যায়:
    সুলতানের জন্ম থেকে মোগল সালতানাতের সিংহাসনে আরোহণের আগে পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ বছরের বিবরণ।

    ২য় অধ্যায়:
    সিংহাসনে আরোহণের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সুলতানের ইনতিকাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৫০ বছরের শাসনামলের ইতিহাস।

    ৩য় অধ্যায়:
    সুলতানের মৃত্যু, চারিত্রিক অবস্থা, অসীয়ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    ৪র্থ অধ্যায়:
    সুলতানের মৃত্যু পরবর্তী সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

    ৫ম অধ্যায়:
    মজলুম সুলতানের ওপর করা আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া এবং সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে।
    সবশেষে কালনির্ঘন্ট ও পরিশিষ্ট বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

    বইটির ভাল দিক-

    লেখক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে অতি অল্প কথায় সকল দিক খুব ভাল ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগের পেছনের মূল কারণ আলোচনা করায় পাঠকের বুঝতে সুবিধা হবে। বইয়ের প্রথম দিকের মানচিত্র, একনজরে সুলতান আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য, কাল-নির্ঘন্ট, একনজরে আওরঙ্গজেবে-পরিচিতি এই অংশগুলো বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছে। যা যে কোনো পাঠককে খুব সহজেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মনে রাখতে সাহায্য করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ইতিহাস ও সাম্রাজ্য নির্ভর বইগুলোতে মানচিত্র দেয়া প্রয়োজন, আর এই বইটিতে তা দেয়ার ফলে বুঝতে অনেক সহজ হয়েছে। তাছাড়া লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় যে তথ্যগুলো দিয়েছেন এর মাধ্যমে অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, বিভিন্ন বই ও লেখকের নাম। সাধারণ পাঠক হিসেবে বইটি পড়তে গিয়ে এর বানান ও ভাষারীতিতে তেমন কোনো ভুল পরিলক্ষিত হয়নি। কালান্তর প্রকাশনীর ইতিহাস নির্ভর মৌলিক বইগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা একটি বই। এককথায় বইটি কালান্তরের সেরা একটি কাজ।

    বইটি পড়া কেন প্রয়োজন-

    মুসলিম উম্মাহর সোনালী অতীত ও সত্য ইতিহাস জানার জন্য বইটি সকলের পড়া উচিৎ। কিভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের গৌরবময় ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে তা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে এই বই থেকে। সত্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের গড়ার জন্য বইটি সহায়ক হবে।

    বইয়ের নাম: আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রকাশনী: কালান্তর প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্য: ৩০০৳
    প্রকাশকাল: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

  4. MD BASHIR AHAMED

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    বই: দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার: আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রথম প্রকাশ: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    পৃষ্ঠা: ২৩৭
    মূল্য: ৳ ৩০০
    প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ
    প্রকাশক: কালান্তর প্রকাশনি

    ইসলামের ইতিহাসে অনেকগুলো সালতানাত বা সাম্রাজ্য গত হয়েছে। আবার ঐ সমস্ত সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে, পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক রাজা, বাদশা বা সুলতানরাও গত হয়েছেন। ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচে’ প্রতাপশালী যেই সাম্রাজ্যের নাম সর্বাগ্রে আমাদের সামনে আসে সেটা হচ্ছে ‘মোগল সাম্রাজ্য’। আর সেই মোগল সাম্রাজ্যের সবচে’ প্রতাপশালী যেই সুলতানের নাম আমাদের স্মরণে আসে তিনি হচ্ছেন সুলতান ‘আওরঙ্গজেব আলমগির’। প্রায় ৪০ লাখ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল যাঁর সালতানাত। সুদীর্ঘ ৫১ বছর যিনি রাজ্য পরিচালনা করেছেন ন্যায়-নীতি আর ইনসাফের সহিত। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সংক্ষেপে কিন্তু অত্যন্ত নির্মোহ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে। সেই সাথে সুলতানের বিরুদ্ধে করা মুসলিম বিদ্বেষী শিয়া ইতিহাসবিদ, ইংরেজ এবং হিন্দু ইতিহাসবিদ, এবং প্রাচ্যবিদদের জঘণ্য সব অপবাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়েছে।

    আমরা ছোটবেলা থেকে সুলতান আওরঙ্গজেব সম্পর্কে জেনে এসেছি বা আমাদেরকে জানানো হয়েছে তিনি ছিলেন জুলুমবাজ, কট্টর ক্ষমতালোভি, ভ্রাতৃ-হন্তারক, হিন্দু বিদ্বেষী, মূর্তি ধ্বংসকারী, এমনকি সাম্রাজ্যের সুলতান হবার জন্য তিনি নিজের পিতাকেও বন্দি করে রেখেছিলেন। সেই সাথে এটাও জেনে এসেছি তিনি একজন আলেম এবং সেই সাথে কুরআনের হাফেজও ছিলেন। তিনি শরিয়া আইন দ্বারা সাম্রাজ্য তথা তৎকালিন ভারতবর্ষ পরিচালনা করতেন। কিন্তু তখনও পর্যন্ত এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে, একজন আলেম-হাফেজ হয়ে তিনি কিভাবে ক্ষমতার জন্য নিজের ভাইদেরকে হত্যা করলেন, বাবাকে গৃহবন্দি করলেন, কেন হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষবশত মূর্তি বিনষ্টকারী ছিলেন! সেই হত্যা, বন্দি বা মূর্তি বিনষ্টের পেছনের রহস্য তখনও পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারিনি। বক্ষ্যমাণ ‘সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির’ গ্রন্থটি সেই সব রহস্যের জট উন্মোচন করেছে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে।

    ♦বিস্তারিত পর্যালোচনা:
    উক্ত গ্রন্থটিকে পড়া এবং বুঝার সুবিধার্থে লেখক বইটিকে মোট পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। সেই অধ্যায়গুলো আবার কতগুলো ছোট ছোট শিরোনামে পরিচ্ছেদ আকারে বিভক্ত করেছেন।

    প্রথম অধ্যায় ‘‘জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং সিংহাসনে আরোহন’’ শিরোনামে লেখক আলোচনা করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরের জন্ম থেকে নিয়ে সুবেদার হওয়ার পর বিভিন্ন বিজয়াভিযানে তাঁর কৃতিত্বের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে দাক্ষিণাত্যের সুবেদারিতে প্রভূত উন্নতিসাধন এবং পরবর্তিতে বলখ ও বাদাখশান যুদ্ধে সেনাপতি হিসেবে নিযুক্তি এবং সফলতা। সেই সাথে কান্দাহার ও পারসিকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যর্থতার দিকগুলোও লেখক অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সহিত বর্ণনা করেছেন।

    দ্বিতীয় অধ্যায় ‘‘সিংহাসনে আরোহন এবং ইন্তিকাল পর্যন্ত শাসন’’ শিরোনামে লেখক আলোকপাত করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরের জীবনকালের সবচে’ সেরা এবং কৌশলি দিকগুলো। বিশেষত সুলতান শাহজাহানের জেষ্ঠ্য পুত্র দারাশিকো যখন সুলতান শাহজাহানের অসুস্থতা এবং দুর্বলতার সুযোগে সিংহাসনের পথে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তখন কিভাবে শাহজাদা আওরঙ্গজেব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত দারাকে হটিয়ে সিংহাসনে আরোহন করার পূর্বে অপারগতাবশত ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন, ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধের চূড়ান্ত রূপ ঘটিয়েছিলেন, ভ্রাতৃঘাতি বিরোধ ও বোঝাপড়া সমাপ্ত করেছিলেন, সেই সাথে পিতার ইন্তেকালের পর সর্বমহলের সমর্থন আদায় করে সুলতান হিসেবে রাজ্যাভিষেক ঘটিয়েছিলেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের নবীন লেখক অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মীর সহিত আলোচনা করেছেন। সুলতান হওয়ার পর আওরঙ্গজেব কিভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন, সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী গোত্র ইউসুফজাই, খাইবার ও আফ্রিদি গোত্রসমূহের বিদ্রোহ নির্মূলে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন; সৎনামি, জাট, শিখ ও রাজপুতদের বিদ্রোহ কিভাবে সফলতার সহিত মোকাবিলা করেছেন, মারাঠাদের বিদ্রোহ কিভাবে দমন করেছেন, বিশেষ করে মারাঠা নেতা শিবাজির চক্রান্ত-ছলছাতুরি কিভাবে কৌশলে দমন করেছেন তা-ও উল্লেখ করেছেন।

    তৃতীয় অধ্যায় ‘‘সুলতানের ইন্তেকাল, চারিত্রিক অবস্থা, অসিয়ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব ও অবদান’’ শিরোনামে আলোকপাত করা হয়েছে সুলতানের অন্তিমমুহূর্ত ও ইন্তেকালের ঘটনা, সুলতানের জীবনসাধনা, ধৈর্য ও সহনশীলতা, জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ, সাধারণ জীবনযাপন, তাকওয়া ও খোদাভীতি, উদারতা ও মহানুভবতা, সাম্রাজ্যের উন্নতির বিভিন্ন দিক। সেই সাথে হিজরি ক্যালেন্ডার প্রবর্তন ও মন্দির ভাঙার অপবাদ এবং হিন্দুদের উপর জিজয়া-কর আরোপের অপবাদের জবাব লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন।

    চতুর্থ অধ্যায় ‘‘আওরঙ্গজেবের মৃত্যুপরবর্তী উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াই এবং সাম্রাজ্যের পতনের ঘনঘটা’’ শিরোনামে লেখক আলোচনা করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেবের সন্তানদের মধ্যকার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াইয়ের দুঃখজনক ঘটনা। সেই সাথে ১৪ শতকের দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনু খালদুনের মোকাদ্দিমার মূলনীতির কথা তুলে ধরেছেন- ‘যখন কোনো জাতি বা সভ্যতা উন্নতির শিখরে পৌঁছে যায়,  তখন তার পতনও অনিবার্য হয়ে ওঠে।’ আর বাস্তবিকপক্ষেই সুলতান আওঙ্গজেব আলমগিরের শাসনকাল ছিল প্রকৃতার্থেই মোগল সাম্রাজ্যের উন্নতির সময়। যার ফলে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁর সন্তানদের সময়েই এর পতনের ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়।

    পঞ্চম অধ্যায় ‘‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় সুলতান আওরঙ্গজেব’’ শিরোনামে লেখক সুলতানের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের অভিযোগ-আপত্তি খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের রেফারেন্সের ভিত্তিতেই। বিশেষ করে ইংরেজ লেখক লেনপুল, শিয়া লেখক খাফি খান এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদি লেখক যদুনাথ প্রমুখের করা সুলতানের উপর বিভিন্ন অপবাদ আপত্তির জবাবগুলো হিন্দু লেখক ওম প্রসাদসহ অনেক মুসলিম ঐতিহাসিকদের নিরপেক্ষ লেখার মাধ্যমেই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের লেখক খন্ডন করেছেন।

    পরিশেষে লেখক ‘‘একনজরে সুলতান আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য’’ এবং একনজরে আওরঙ্গজেবের পরিচিতি তুলে ধরেছেন যা যেকোনো পাঠকের জন্য জানা অনেক উপকারি বলে মনে করছি।

    ♦ভালো লাগার একটি বিষয়:
    মোগল সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সুদীর্ঘ ৫১ বছর সিংহাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই শাসনকালেই তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেছিলেন, সেই সাথে শরয়ি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য যোগ্য আলিমদের নিয়ে ইসলামি আইনশাস্ত্রের উপর ‘‘ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি’’ রচনা করেছিলেন। যা সারা বিশ্বে সমাদৃত এবং ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া নামেও পরিচিত।

    ♦গ্রন্থটির আলোচনা-সমালোচনা:
    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরকে নিয়ে সংক্ষেপে এমন তথ্যবহুল বই বাংলা ভাষায় আর দ্বিতীয়টি আছে বলে আমার মনে হয় না। বিশ্লেষণাত্বক তত্ত্ব-উপাত্ত এবং তথ্যের বিপুল সমাহারে লিখিত একটি গ্রন্থ বলে আমি মনে করছি। সুলতানের উপর করা ইংরেজ, হিন্দু এবং শিয়া ঐতিহাসিকদের প্রতিটি অভিযোগের যুক্তি খন্ডন আলাদা আলাদা রেফারেন্সের সহিত লেখক তুলে ধরেছেন। যেকোনো পাঠকের জন্যই গ্রন্থটি একটি নিরপেক্ষ গ্রন্থ হবে বলে আশা করছি।

    বইয়ের বাঁধাই, পেইজ এবং লেখার মান নিঃসন্দেহে দেখার মত। তবে বইয়ের প্রচ্ছদ আমার ভালো লাগেনি। যদিও ছবিতে অনেক সুন্দর লেগেছিল, কিন্তু বাস্তবে আমার কাছে ততটা সুন্দর লাগছে না।

    ♦রেটিং: ৪/৫

    ♦লেখক পরিচিতি:
    সমকালীন তরুণদের মধ্যে যারা স্বল্পসময়ে বড়দের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন, ফাহাদ আবদুল্লাহ তাদের একজন। আসলাম রাহির ‘‘দ্য মার্টায়ার লিডার’’ বইয়ের অনুবাদ করে লেখালেখির অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির তাঁর প্রথম মৌলিক গ্রন্থ। প্রতিভাবান এই তরুণের জন্ম ফেনী জেলায়। ফেনীর প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া মাদানিয়া, সিলোনিয়ায় দীনি শিক্ষার হাতেখড়ি। তারপর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিনগর ও জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি থেকে উপরের শ্রেণীগুলোর পাঠ চুকান। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা প্রতিশ্রুতিশীল এই তরুণ ইতিহাস নিয়ে পড়তে ও লিখতে ভালোবাসেন। সে সূত্র ধরেই তাঁর আওরঙ্গজেব আলমগির গ্রন্থটি। আল্লাহ তাঁর নেক মাকসাদ পুরা করুন, হায়াতে বরাকাহ দান করুন।

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.