কিছু পড়ে দেখুন

খাইরুদ্দিন বারবারুসা (সমুদ্র ঈগল)

লেখক:

অনুবাদক:

আবদুর রশীদ তারাপাশী

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

424

প্রচ্ছদ:

নওশিন আজাদ

কোয়ালিটি:

হার্ডবোর্ড বাঁধাই

প্রকাশকাল:

জুলাই, ২০১৭

সংস্করণ:

অক্টোবর ২০১৮

ISBN:

978 984 90473 8 4

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(1 customer review)

৳ 225

‘সমুদ্র ঈগল’ সালতানাতে উসমানিয়ার (অটোমান সাম্রাজ্য) মহান সুলতান সুলায়মান আল-কানুনি এবং তাঁর নৌ-সেনাপতি খাইরুদ্দিন বারবারুসার জীবনীভিত্তিক ইতিহাস।

এঁরা ছিলেন তৎকালীন ইউরোপীয়দের জন্য জীবন্ত দুই আতঙ্কের নাম। সুলায়মান যেমন স্থলভাগে ইউরোপের ৮০০ মাইল ভেতরে ঢুকে ভেঙে দিয়েছিলেন তাদের শক্তির মেরুদণ্ড, তেমনি সাগরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছিলেন খাইরুদ্দিন বারবারুসা। সুলতান যেমন হাঙ্গেরির রণক্ষেত্রে পর্যুদস্ত করেছিলেন ইউরোপের সাত-সাতটি দেশের যৌথবাহিনীর শক্তির মেরুদণ্ড, তেমনি বারবারুসা প্রিভিজার নিকটবর্তী কিরতা উপসাগরে মাত্র ১২০টি যুদ্ধজাহাজ আর কিশতির বহর নিয়ে সুলতানের কোনো প্রকার সাহায্য ব্যতিরেকে এককভাবে সাগরে সলিল-সমাধি ঘটিয়েছিলেন উইরোপীয় ইতিহাসের ৪ শতাধিক যুদ্ধ জাহাজের বৃহত্তম নৌবহটির।

খাইরুদ্দিনের হাতে পর্যুদস্ত হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল স্পেন অধিপতি চার্লসের অ্যাডমিরাল আন্দ্রে ডুরিয়া। যে পরাজয়ের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে মারা গিয়েছিল ভেনিসের রাজা দুজে। রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছিল চার্লস। সাগর এককভাবে কর্তৃত্বে এসে গিয়েছিল বারবারুসার। সাগরে তাঁর আর কোনোই প্রতিপক্ষ ছিল না।

উপন্যাসটিতে উঠে এসেছে এরূপ আরও শিহরণজাগানিয়া অনেক বিজয়কাহিনী। পরতে পরতে উত্তেজনা আর রোমান্টিকতায় ভরপুর এ এক অনবদ্য রচনা।

লেখক:

অনুবাদক:

আবদুর রশীদ তারাপাশী

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

424

প্রচ্ছদ:

নওশিন আজাদ

কোয়ালিটি:

হার্ডবোর্ড বাঁধাই

প্রকাশকাল:

জুলাই, ২০১৭

সংস্করণ:

অক্টোবর ২০১৮

ISBN:

978 984 90473 8 4

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(1 customer review)

1 review for খাইরুদ্দিন বারবারুসা (সমুদ্র ঈগল)

  1. MD BASHIR AHAMED

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    গ্রন্থ: সমুদ্র ঈগল
    লেখক: আসলাম রাহি এম. এ
    অনুবাদক: আবদুর রশীদ তারাপাশী
    প্রকাশক: কালান্তর প্রকাশনি
    প্রচ্ছদ: নওশিন আজাদ
    বইয়ের ধরন: জীবনীভিত্তিক উপন্যাস
    প্রকাশকাল: জুলাই ২০১৭
    মুদ্রিত মূল্য: ৪০০/-
    পৃষ্ঠা: ৩৯২

    প্রারম্ভিকাঃ
    উসমানি খিলাফত। ১২৯৯-১৯২৪ খিস্টাব্দ পর্যন্ত মুসলিম শাসনকালের ইতিহাসে সবচে’ দীর্ঘমেয়াদী এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য। সুদীর্ঘ সোয়া ছয়শো বছরের এক দোর্দন্ড আর প্রতাপশালী রাজবংশ। যার সর্বোচ্চ আয়তন ছিল প্রায় বায়ান্ন লক্ষ বর্গকিলোমিটার। এই বিশাল ভূখন্ডের পাশাপাশি উসমানি সুলতানরা এক সময় সারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিত, পূর্ব-পশ্চিমের রাজা-বাদশাদের সিংহাসনের ভাগ্যকে নির্ধারণ করত। তেমনি এক প্রতাপশালী সুলতান ছিলেন উসমানি খিলাফতের দশম সুলতান এবং দ্বিতীয় খলিফা সুলায়মান আল-কানুনী। যার শাসনকালকে উসমানিদের স্বর্ণযুগ বলা হতো। তৎকালীন বিশ্বে স্থলভাগে তাঁর মত ক্ষমতাবান, শক্তিশালি, সুদক্ষ, ন্যায়বান আর কোনো রাজা-বাদশা ছিল না। তেমনিভাবে তাঁর একজন নৌ-সেনাপতি ছিলেন, যাঁর সমকক্ষ জলভাগে আর কোনো এ্যাডমিরাল বা নৌসেনাপতি ছিল না। যাঁর নাম শুনলে ইউরোপীয় ক্রুসেডার জলদস্যুদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠত। যাঁর দুঃসাহসিক সামুদ্রিক অভিযানের কাহিনি শুনে রীতিমত হতবাক হয়ে যেত তৎকালীন খ্রিস্টশক্তির প্রধান স্পেন সম্রাট সপ্তম চার্লস। সেই নৌ-সেনাপতির নাম হচ্ছে ‘‘খাইরুদ্দিন বারবারুসা’’। বক্ষ্যমাণ ‘‘সমুদ্র ঈগল’’ গ্রন্থটি মূলত তাঁরই জীবনীভিত্তিক ঐতিহাসিক একটি উপন্যাস। তাঁর সাথে সুলতান সুলায়মানের শাসনকালের কতগুলো বিরত্বগাঁথা অভিযানের কাহিনিও উপন্যাসাকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

    গ্রন্থ পর্যালোচনাঃ
    উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে দক্ষিণ স্পেনের এক উপকূলীয় উপত্যকার (আল বাশারাত) নাম দিয়ে। খ্রিস্টান শক্তির কাছে আন্দালুস তথা মুসলিম স্পেনের পতনের পর এই উপত্যকাই ছিল স্পেনে মুসলমানদের সর্বশেষ ঘাঁটি, যাতে দুটি মুসলিম গোত্র বাস করত। সেই ঘাঁটির অদূরেই ছিল খ্রিস্টানদের এক রাহেব পল্লী। সেখানের এক ধর্মযাজক বা পাদ্রী ছিল ছদ্মবেশী একজন মুসলিম নৌ-সৈনিক। নৌ-সেনাপতি খাইরুদ্দিন বারবারুসার একজন বিশ্বস্ত সালার। যাঁর নাম হাসানক্রুসু। বারবারুসার সহযোগিতায় পাদ্রীর ছদ্মবেশে সে স্পেনের নির্যাতিত-নিপীড়িত মুসলমানদের সাহায্য-সহযোগিতা করত, এছাড়াও তৎকালীন স্পেনের হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া পলায়নরত নির্বাসিত মুসলিম ও ইহুদিদের উদ্ধারকার্য পরিচালনা করে উসমানি খিলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিত। নয়া দুনিয়া তথা আমেরিকা থেকে স্পেন সম্রাট চার্লসের নৌ-বাহিনির ধনভান্ডার বোঝাই করা জাহাজগুলোতে আক্রমণ করে অসহায়দের মাঝে এগুলোর মূল্যবান ধন-সম্পদ, সোনাদানা বিলিয়ে দিত। আলজেরিয়া, তিউনিস, তিলিমসানসহ গোঁটা আফ্রিকাকে খাইরুদ্দিনের সমুদ্র ঝড়ের প্রভাবের কাছে হেরে পালাতে হয়েছিল খিস্টশক্তিকে। এক সময় অতিষ্ঠ হয়ে স্পেন সম্রাট চার্লস তার প্রধান নৌ-সেনাপতি এ্যাডমিরাল আন্দ্রে ডুরিয়াকে শক্তিশালি এক নৌবহর দিয়ে পাঠান খাইরুদ্দিনের শক্তিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে। আন্দ্রে ডুরিয়া চার শতাধিক যুদ্ধ জাহাজের এক বিশাল নৌবহর নিয়ে আক্রমণ করে খাইরুদ্দিনের নৌবহরের উপর। ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক প্রিভিজার নিকটবর্তী কিরতা উপসাগরে মাত্র ১২০টি যুদ্ধজাহাজ নিয়েই আন্দ্রে ডুরিয়ার ৪০০ জাহাজের সলিল সমাধি ঘটিয়ে সমুদ্রে একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন খাইরুদ্দিন বারবারুসা। সম্মিলিত ইউরোপীয় নৌশক্তির পরাজয় আর আন্দ্রে ডুরিয়ার বাহাদুরির সমাপ্তি ঘটে উক্ত নৌযুদ্ধে। এই উসমানীয় নৌবাহিনী ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর পর্যন্ত তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। সুলতান সুলায়মান ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের সবেচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান সুলতান। জলপথের এই বিজয়ের পূর্বেই তিনি ইউরোপের সাতটি ক্রুসেডার রাষ্ট্রের সম্মিলিত বাহিনীকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পরাজিত করেছিলেন হাঙেরির ঐতিহাসিক মোহাকসের ময়দানে। শুধু তাই নয় ইউরোপের ৮০০ মাইল গভীরে ঢুকে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন তাদের শক্তির মেরুদন্ডকে। ভিয়েনার প্রাচীরে উসমানি কামানের এমন ধ্বংসাত্মক আঘাতের চিহ্ন রেখেছিলেন যা কয়েক শতাব্দি পরও তাদের উত্তরসূরীরা এর দুঃসহ স্মৃতি বহন করেছিল। এই সকল দুঃসাহসিক আর রোমাঞ্চকর সব অভিযানের কাহিনি নিয়েই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। অবিশ্বাস্য রকমের সব শিহরণজাগানিয়া বিজয়াভিযানের কাহিনিগুলো সম্পর্কে জানতে হলে উপন্যাসটি পড়তে হবে। উপন্যাসের প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে উত্তেজনা, এডভেঞ্চার আর রোমান্টিকতার ছোঁয়া।

    পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
    উপন্যাস নিয়ে আমার লেখা এটাই প্রথম রিভিউ, এর আগে অনেকগুলো বইয়ের রিভিউ লিখলেও উপন্যাস নিয়ে এটাই প্রথম। যদিও উপন্যাস কম পড়া হয়নি, তবে এই উপন্যাসটা অন্যান্য উপন্যাসের মতো করে লেখা নয়। ইসলামি উপন্যাস হওয়া সত্ত্বেও যেগুলোতে সচরাচর অশ্লীল প্রেম-পিরিতিকে প্রমোট করা হয়, সেগুলো থেকে এটা অনেক ভিন্ন। বাস্তবতার নিরিখে লেখা একটি ইতিহাসনির্ভর জীবনীগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
    এখানে এমন কতগুলো দুর্লভ চরিত্রের নাম এসেছে যাদেরকে সত্যিকারের ইতিহাসের চরিত্রেও খুঁজে পাওয়া যায়। উসমানি খিলাফতের নৌ-শক্তি বিশেষ করে এ্যাডমিরাল খাইরুদ্দিন বারুবারুসার দুঃসাহসিক সামদ্রিক অভিযানের এক অনন্য জীবনীগ্রন্থ বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে না। উপন্যাস প্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে অসাধারন একটি গ্রন্থ।

    গ্রন্থটির আলোচনা-সমালোচনাঃ
    এই উপন্যাসের অনুবাদকের প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না। অনুবাদের সাহিত্যিক মান সত্যিই উচ্চমার্গীয়। সেই সাথে প্রাঞ্জল ভাষার সহজবোধ্য অনুবাদ। অনুবাদের ধারাবাহিকতা এক কথায় অতুলনীয়।
    এটা কালান্তরের প্রথম দিকে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম, তখনই সংগ্রহ করেছিলাম। বইটা যদিও হার্ডকপি, কিন্তু এখনই বইটা অনেকটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। বাইন্ডিংটা তেমন মজবুত নয়, তবে দেখেছি দ্বিতীয় মূদ্রণে অনেক মজবুত করা হয়েছে।

    রেটিং: ৫/৫

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *