কিছু পড়ে দেখুন

জান্নাতের সবুজ পাখি

লেখক:

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

৩০৪

প্রচ্ছদ:

সানজিদা সিদ্দিকী কথা

কোয়ালিটি:

হার্ডবোর্ড বাঁধাই

প্রকাশকাল:

জুলাই ২০২০

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(1 customer review)

৳ 315

Out of stock

সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানুন নাসায়ি, সুনানু আবি দাউদ, সুনানুত তিরমিজি, সুনানুদ দারিমি, সুনানু ইবনি মাজাহ, মুসনাদু আহমাদ এবং মুয়াত্তা মালিক—হাদিসের এই কালজয়ী নয়টি গ্রন্থ থেকে ইসলামের মাজলুম ফরজ জিহাদবিষয়ক সহিহ হাদিসের সংকলন বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ জান্নাতের সবুজ পাখি। পুনরুক্তি ছাড়া ৩৪৭টি সহিহ হাদিস এতে সংকলিত হয়েছে।

গ্রন্থটির শুরুতে জিহাদের তত্ত্বকথা শিরোনামে ভূমিকাস্বরূপ এক দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যেখানে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ ও যুক্তির আলোকে জিহাদের হাকিকত, তত্ত্ব ও হিকমাহ স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত কিছু সংশয় নিরসন করা হয়েছে।

গ্রন্থটিতে কোনো জয়িফ (দুর্বল) হাদিস উল্লেখ করা হয়নি—জাল, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বর্ণনা তো নয়ই। তবে এমন কিছু হাদিস আনা হয়েছে, যেগুলো হাদিসশাস্ত্রের নীতি ও ইমামগণের বক্তব্য অনুসারে সহিহ; কিন্তু হালজামানার কোনো হাদিসবিশারদ ভুলবশত সেটা জয়িফ বলেছেন। অবশ্য এসব ক্ষেত্রে টীকায় হাদিসের বিশুদ্ধতার তাহকিক উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিটি হাদিসের সঙ্গে তাখরিজ (গ্রন্থসূত্র) রয়েছে। প্রায় সব হাদিসের শুরুতে স্বতন্ত্র শিরোনাম যোগ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ পাঠক এর মর্মার্থ সহজে অনুধাবন করতে পারেন এবং সবাই যেন হাদিসগুলো পূর্ণভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন।

মুসলমানদের ঘরে ঘরে যেন এই হাদিসগ্রন্থের তালিম হয়, সবার অন্তরেই যেন দীন বিজয়ের স্বপ্ন এবং শাহাদাতের দুর্বার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়, সেই মহান লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

লেখক:

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

৩০৪

প্রচ্ছদ:

সানজিদা সিদ্দিকী কথা

কোয়ালিটি:

হার্ডবোর্ড বাঁধাই

প্রকাশকাল:

জুলাই ২০২০

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(1 customer review)

1 review for জান্নাতের সবুজ পাখি

  1. MD BASHIR AHAMED

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    গ্রন্থ: জান্নাতের সবুজ পাখি
    লেখক: আলী হাসান উ সা মা (Kazi Monirul Islam)
    পৃষ্ঠা: ৩০২
    মূল্য: ৩৮০
    প্রচ্ছদ: সানজিদা সিদ্দিকী কথা
    নামলিপি: হামীম কেফায়েত
    প্রকাশক: কালান্তর প্রকাশনি
    প্রকাশকাল: জুলাই ২০২০

    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
    সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালারই জন্য যিনি আমাদেরকে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুক মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, আবার শুধু মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তাঁর একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলামের মতো মহান দৌলত দান করে মুসলমান বানিয়ে পাঠিয়েছেন। সেই সাথে আখেরি নবি রাসূলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হিসেবেও সৃষ্টি করেছেন।

    আমরা মুসলিম হিসেবে সকলেই চাই দুনিয়াতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সহিত বসবাস করতে। রুটি-রুজগারের জন্য সারাদিন খেটে বেড়ায়, দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিয়ে রাত্রে একটু প্রশান্তির ঘুম ঘুমাতে চাই। পরিবার নিয়ে একটু সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। দুনিয়ার পিছনে ছুটতে ছুটতে, দুনিয়ার মোহ-মায়ায় পড়ে এক সময় আমরা আখিরাতকে ভুলেই যায়, দীন থেকে গাফেল হয়ে যায়, আবার জান্নাতে যাবার প্রত্যাশাও রাখি।

    দীনদার মুসলিম বলেন আর বদ্বীনী মুসলিম বলেন কমবেশ আমরা সকলেই চাই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে চিরস্থায়ী জান্নাতে যেতে। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাতের মতো ইসলামের মৌলিক বিধানগুলো আমরা কমবেশ সামর্থ্যানুযায়ী প্রত্যেকেই আদায় করার চেষ্টা করি। বর্তমান ফেতনা-ফাসাদের জমানায় কোনো কোনো মুসলিম দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবেও এসব বিধান আদায় করার হুকুম রয়েছে। এসব কিছুর পরও দুনিয়াতে বিপর্যয় শুধু মুসলমানদেরই! তারাই সবচে’ নির্যাতিত জাতি।

    গোটা মুসলিম বিশ্ব আজ অসহায়ের ন্যায় কাতরাচ্ছে। আমরা যদি খেয়াল করি দেখি যে, মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ থেকে চেচনিয়া পর্যন্ত সবগুলো মুসলিম দেশই কোনো না কোনোভাবে সমস্যাই জর্জরিত। ইসলামের কোন সে মাজলুম বিধান ছেড়ে দেয়ার কারণে আজ তাদের এই দুর্দশা! কোন সে বিধান যার কথা স্বয়ং রাসূলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে বলেছেন, ‘‘জান্নাত তরবারির ছায়াতলে!’’ যেই বিধান আজ আমরা পালন করব তো দূর কি বাত বরং সেই বিধানের কথা আজ আমরা সরাসরি বলতেও ভয় পাচ্ছি।

    আমাদের এই হীনম্মন্যতার কারণেই গোটা মুসলিম বিশ্বের আজ এই করুণ দশা। দুনিয়ার মায়ায় পড়ে আজ আমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হচ্ছি না, শাহাদাতের আকাঙ্খা ছেড়ে দিয়ে কাপুরুষতার জীবন বেছে নিয়েছি, মাজলুম ভাই-বোনদের ডাকে সারা দিচ্ছি না, যার কারণে আজ শত্রুরা আমাদেরকে ভয় পাবে তো দূর কি বাত বরং সকলে (কাফির) একত্রে হামলে পড়ছে। আমরা যেই না ইসলামের চূড়া খ্যাত জি হা দ ছেড়ে দিয়েছি সাথে সাথে আল্লাহ আমাদেরকে লাঞ্ছনাকর জীবন দিয়েছেন। এই কঠিন দূরাবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই জি হা দের পথেই হাঁটতে হবে। শত প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়ে হলেও সাসীঢালা প্রাচীরের ন্যায় দৃঢ় পদক্ষেপে জি হা দের পতাকাতে সমুন্নত করতে হবে।

    শত বছরের লাঞ্ছনাকর জীবন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পন্থাই জি হা দ ফি সাবিলিল্লাহ। শত্রুর মনে ত্রাস সৃষ্টি আর মুমিনের হৃদয়ে ভালোবাসা তৈরি করতে হলে জি হা দের পথেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। জান্নাতের সবুজ পাখি হতে হলে জি হা দের পথেই চলতে হবে। জান্নাতের সবুজ তাঁবুর ভেতর থাকতে হলে জি হা দের ময়দানেই মরতে হবে। বেহেশতের পরতে পরতে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াতে চাইলে জি হা দের পথেই লড়তে হবে। আল্লাহর রাস্তার শহীদরা কবরে জীবিত থাকে, মহান রব কবরেই তাঁদের রিজিক পৌঁছিয়ে থাকেন, এই সৌভাগ্য অর্জন করতে চাইলে জি হা দের পথেই বেড়িয়ে পড়তে হবে। শাহাদাতের বাসনাকে পূর্ণ করতে চাইলে জি হা দের পথই বেছে নিতে হবে। আর মনে রাখতে হবে ‘‘শাহাদাত মৃত্যু নয়, জীবনের অপর নাম!’’ স্বয়ং রাসূলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘আমি কামনা করি, আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহিদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, তারপর শহিদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, পুনরায় শহিদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, আবার শহিদ করা হয়!’’ [সহিহ বুখারি: ২৭৯৭]

    শহিদদের ফজিলত এবং বর্তমানে ইসলামের সবচে’ মাজলুম বিধান জি হা দ নিয়ে শাইখ আলী হাসান উ সা মা হাফিজাহুল্লাহ হাদিসের কালজয়ী ৯টি গ্রন্থ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানুন নাসায়ি, সুনানু আবি দাউদ, সুনানুত তিরমিজি, সুনানুদ দারিমি, সুনানু ইবনি মাজাহ, মুসনাদু আহমাদ এবং মুয়াত্তা মালেক) থেকে যাচাই-বাছাই করে ৩৪৭টি সহিহ হাদিসের আলোকে বক্ষ্যমাণ ‘‘জান্নাতের সবুজ পাখি’’ গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।

    গ্রন্থটির পর্যালোচনা:
    আসলে এই বইটার রিভিউ লেখার যোগ্যতা আমার নেই। তবু সংক্ষেপে কিছু ধারণা দিচ্ছি শুধু। মোট ৩০২ পৃষ্ঠার গ্রন্থটি পাঠকদের সুবিধার্থে লেখক অনেকগুলো শিরোনামে বিন্যস্ত করে সাজিয়ে লিখেছেন। লেখক প্রথমে ‘‘মুখবন্ধ’’ শিরোনামে কবি আল মাহমুদের “আমাদের এ মিছিল নিকট অতিত থেকে অনন্তকালের দিকে…’ কবিতাটি তুলে ধরেছেন। জি হা দের তত্ত্বকথা শিরোনামে ৩৪ পৃষ্ঠায় জি হা দ বিষয়ক খুবি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। এরপর সাহায্যপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য-পরিচিতি তুলে ধরেছেন। যেমনিভাবে একদিকে জি হা দ ও শাহাদাতের লক্ষ্য ও ফজিলত, আল্লাহর পথে বিনিদ্র প্রহরার মর্যাদা, প্রকৃত মু জা হি দের পরিচয়, জি হা দের নীতি নির্দেশিকা ভিন্ন ভিন্ন অসংখ্য শিরোনামে তুলে ধরেছেন, তেমনিভাবে গুপ্তচরের শাস্তি, জি হা দ না করে মৃত্যুবরনের ক্ষতি, জি হা দে দানের ফজিলত, যুদ্ধে নারী ও শিশু হত্যা, ঘাতক ও নিহতের পরিণাম, জি হা দ থেকে পলায়ন বিষয়ক ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামও উল্লেখ করেছেন। সেই সাথে সহিহ হাদিসের আলোকে শুধু সশস্ত্র জি হা দের কথাই নয় বরং মুখ দ্বারা জি হা দ এবং নফসের বিরুদ্ধে জি হা দের আলোচনাও তুলে ধরেছেন। সর্বশেষে লেখক গনিমত এবং এর বিধান, জিজিয়া-করের বিধান, ফাইয়ের বিদান, দাসের বিধান, উশর এবং খুমুস সংক্রান্ত অত্যন্ত তথ্যবহুল আলোচনা করেছেন।

    গ্রন্থটির আলোচনা:
    বাংলা ভাষায় দ্বিতীয় এরকম কোনো বই বের হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী একটি বই। বইয়ের তথ্যগুলোকে নির্ভূল করার জন্য লেখক অনেক শ্রম দিয়েছেন বলা যায়। বইয়ের প্রচ্ছদ, নামলিপি আমার দেখা সেরা কাজ। বাঁধাইও অনেক মজবুত, বইয়ের পৃষ্ঠা দেখার মতো, বানানেও তেমন একটা ভুল ধরা পড়েনি। দুআ করি উক্ত বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে (বিশেষ করে লেখক-প্রকাশক-পাঠক) মহান রব ‘‘জান্নাতের সবুজ পাখি’’ হিসেবে কবুল করুন।

    গ্রন্থটির সমালোচনা:
    শেষের পৃষ্ঠার শেষ প্যারার তিন নাম্বার লাইনে একটা বানান ভুল আছে, প্রকাশনির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    রেটিং: ৫/৫

Add a review

Your email address will not be published.