কিছু পড়ে দেখুন

উসমানি খিলাফতের ইতিহাস (একত্রে)

লেখক:

অনুবাদক:

আবদুর রশীদ তারাপাশী

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

৭৫২

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(1 customer review)

৳ 610

খিলাফতব্যবস্থা পৃথিবীর ইতিহাসে দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা একমাত্র শাসনব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে ১৩ শ বছর এই শাসনব্যবস্থা পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ইনসাফের সঙ্গে। খিলাফতে রাশিদার পর নেতৃত্বের বাগডোর ছিল বংশপরম্পরায়। সর্বশেষ খিলাফতের নেতৃত্ব দিয়েছে তুর্কি বংশোদ্ভূত উসমানিগণ। ইতিহাসে যাঁরা অটোমান হিসেবে পরিচিত।

এই বইয়ে আলোচিত হয়েছে উসমানি সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন নিয়ে। সেলজুক সাম্রাজ্যের পতনের পর উসমানি সাম্রাজ্যের উত্থান ছিল সর্বব্যাপী। জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যুদ্ধ এবং সমরবিজ্ঞান—এককথায় মানুষের জাগতিক জীবনের এমন কোনো বিভাগ ছিল না, যেখানে উন্নতির ছোঁয়া তারা পৌঁছে দেয়নি।

উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহের কনস্টান্টিনোপল বিজয় ছিল এই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। তাঁর পরবর্তী একের পর এক শক্তিমান সুলতান এসে এশিয়া, আফ্রিকা আর ইউরোপ জয় করে নিয়েছেন। পৃথিবী থেকে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার দূর করে ইসলামের বিজয়পতাকা উড্ডীন করেছেন।

একসময় এই বিশাল শক্তিধর সাম্রাজ্য ক্রুসেডীয় আক্রমণে জর্জরিত হয়। সুলতানগণ দুর্বল হতে থাকে। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মুসলমানরা পশ্চিমাদের নিকট পরাজিত হতে থাকে। জনগণ ও বুদ্ধিজীবী-শ্রেণি পশ্চিমা সেকুলার চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়। তারপর নানা ষড়যন্ত্রে শত বছরের প্রচেষ্টায় উসমানি শাসনের পতন ঘটানো হয়।

এই বইয়ে আলোচিত হয়েছে কীভাবে উত্থান হয়েছিল উসমানি সাম্রাজ্যের। তারপর কীভাবে খিলাফতের নেতৃত্ব তাঁদের হাতে আসে। কীভাবে এই উসমানি সাম্রাজ্য প্রায় ৭০০ বছর শাসনের পর নেতৃত্ব হারায় এবং সাড়ে ১৩ শ বছর নেতৃত্ব দেওয়া খিলাফতব্যবস্থার পতন হয়। কীভাবে খিলাফতব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে পশ্চিমা সেকুলার গণতন্ত্র মুসলিম উম্মাহর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে আরও নানাবিধ করুণ ষড়যন্ত্রের ইতিহাস এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

মুসলিম উম্মাহ আজ হতাশ, দিকভ্রান্ত। তাদের কোনো অভিভাবক নেই। যে যেভাবে পারছে খাবলে খাচ্ছে। তারপরও বিশ্বব্যাপী উম্মাহ ঘুরে দাঁড়াবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। মুসলিম তরুণদের উদ্দীপ্ত করতে, আশার আলো জাগাতে লেখক সুসংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন, দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। হৃদয় স্পর্শ করা উত্তপ্ত কথামালা দ্বারা জ্বালিয়েছেন চেতনার মশাল। ‍উল্লেখ করেছেন নবিজির হাদিস—‘নবুওয়াতের আদলে আবারও আসবে খিলাফত।’

সর্বোপরি বইটি উন্মোচিত করবে আমাদের অতীত-ভুল, যার কারণে মুসলিম উম্মাহ আজ লাঞ্ছিত; দেখাবে বিজয়ের পথ, যার মাধ্যমে আবারও আলোকিত হবে পৃথিবী।

লেখক:

অনুবাদক:

আবদুর রশীদ তারাপাশী

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

৭৫২

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(1 customer review)

1 review for উসমানি খিলাফতের ইতিহাস (একত্রে)

  1. MD. SAIDUL ISLAM (verified owner)

    “THE OTTOMAN EMPIRE”
    উসমানি সাম্রাজ্য। সেলজুক সাম্রাজ্যের পতনের পর উসমানি সাম্রাজ্যের উত্থান ছিল সর্বব্যাপী।সেলজুক সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে সর্বশেষ খিলাফতের নেতৃত্ব দিয়েছে তুর্কি বংশোদ্ভূত উসমানিগণ, ইতিহাসে যারা অটোম্যান হিসেবে পরিচিত। অটোম্যানরা তাদের ক্ষমতার সম্প্রসারণ করার প্রক্রিয়ায় ইসলামের মূল ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার ওপর যেমন জোর দিত, ঠিক একইভাবে ইসলামের যুদ্ধনীতিকেও তারা নিজেদের বেলায় প্রয়োগ করেছিল। তাদের সময়ে জ্ঞানবিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যুদ্ধ এবং সমরবিজ্ঞান এককথায় মানুষের জাগতিক জীবনের এমন কোনো বিভাগ ছিলনা, যেখানে উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। যেই কনস্টান্টিনোপল বিজয়ীর ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহর রাসুল সা. প্রশংসা করে গেছেন, তিনি ছিলেন এই উসমানি সাম্রাজ্যের এক মহান ব্যক্তি সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ। বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতাপশালী ও দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার এই বিশাল সাম্রাজ্যকে নিজের অসাধারণ লিখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বিশ্ববিখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। তাঁর লিখা বইটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে ‘কালান্তর প্রকাশনী’। বইটির অনুবাদ করেছেন আবদুর রশীদ তারাপাশী।

    বই সম্পর্কে:
    বইটি লেখক তুর্কদের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে আলোচনা দিয়ে শুরু করেন। তারপর উসমানি সাম্রাজ্যের মহান সুলতান উসমান, উরখান এবং মুহাম্মাদ ফাহিহের মতো ব্যক্তিদের জীবনী ও কর্মপরাকাষ্ঠার ওপর আলোকপাত করেন। উসমানিদের জিহাদি অবদান ও দীনের দাওয়াতি মিশনের ধারাবাহিক বর্ণনা করেছেন। সবশেষে খিলাফতের পতনের সকল কারণ উল্লেখ করেন। লেখক বইটি এমনভাবে সাজিয়েছেন যা সকল পাঠকের জন্য সহজবোধ্য। তাছাড়া অনুবাদক বইটিকে এমনভাবে অনুবাদ করেছেন যে বইটি পড়তে কখনো আটকাতে হয়নি। ফলে উসমানি সাম্রাজ্যের ইতিহাস জানার জন্য বইটি অনেক সহায়ক হবে।

    অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনা:
    লেখক তার বইটিকে ছয়টি অধ্যায় ও প্রত্যকটি অধ্যায়কে কয়েকটা পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন এবং শেষে সার-সংক্ষেপ দিয়েছেন।

    প্রথম অধ্যায়:
    তুর্কদের পূর্বপুরুষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় অধ্যায়:
    উসমানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা এবং তাদের বিজয় সংক্রান্ত আলোচনা।

    তৃতীয় অধ্যায়:
    সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ কর্তৃক কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের গৌরবোজ্জ্বল আলোচনা।

    চতুর্থ অধ্যায়:
    সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহের পর শক্তিমান কতক সুলতানের জীবনালেখ্য।

    পঞ্চম অধ্যায়:
    উসমানি সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা প্রসঙ্গ।

    ষষ্ঠ অধ্যায়:
    সুলতান আবদুল হামিদকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
    সবশেষে গ্রন্থের সারসংক্ষেপ আলোচনা করা হয়েছে।

    প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠাসজ্জা:
    কালান্তরের অন্যান্য বইয়ের মত এই বইয়েরও প্রচ্ছদ যথেষ্ট সুন্দর হয়েছে। বইটির পৃষ্ঠাসজ্জা খুব ভাল হয়েছে, অতিরিক্ত কোনো জায়গা নষ্ট করা হয়নি। কালান্তরের অন্য বইগুলোতে যে ধরনের বাঁধাই করা হয় তার তুলনায় এই বইটির বাঁধাই আমার কাছে যথেষ্ট ভাল মনে হয়েছে। আমি মনে করি বাঁধাইয়ের মান আরও উন্নত করে এরকম স্টাইলে বাঁধাই করাটাই ভাল হবে।

    বইটি পড়া কেন প্রয়োজন:
    বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের ইতিহাসের বই, বিশেষ করে মুসলিম জাতির ইতিহাসের বই বেশ বেশি পড়া প্রয়োজন। কেননা, ইতিহাস আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। এর মাধ্যমে সমসাময়িক সংকটগুলোকে সহজে বুঝতে পারব, নিজেদের করনীয় নির্ধারণ করতে পারবো। ইসলাম ও মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পড়ে আমরা আমাদের অন্তরের হীনমন্যতা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

    বইয়ের নাম: উসমানি খিলাফতের ইতিহাস
    লেখক: ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
    ভাষান্তর: আবদুর রশীদ তারাপাশী
    প্রকাশনী: কালান্তর প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্য: ৳৪৩৫+৳৪৩৫ (২খন্ড)
    প্রকাশকাল: ১ নভেম্বর ২০১৯
    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *