কিছু পড়ে দেখুন

ইতিহাসের ধূসরখাতা

লেখক:

অনুবাদক:

ফাহাদ আবদুল্লাহ

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

312

প্রকাশকাল:

মার্চ, ২০২২

কোয়ালিটি:

হার্ডকভার

রেটিং:
(4 customer reviews)

৳ 285

ইসমাইল রেহান—এই সময়ের বহুল পঠিত ইতিহাসবিদদের একজন তিনি। উম্মাহর দরদ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখা তাঁর বিশেষ প্রবন্ধের সংকলন ইতিহাসের ধূসরখাতা। সাধারণ ঘটনার আড়ালে যে অসাধারণ কাহিনি থাকে, উম্মাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু ঘটনার বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ দিয়েই মালা গাঁথা হয়েছে এই গ্রন্থের। বলতে গেলে ইতিহাসের চেনা পথঘাটই এখানে অঙ্কিত হয়েছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। কিছু ঘটনার দৃশ্যপট সামনে এনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে উম্মাহর উত্থান-পতন ও ক্ষয়-লয়ের কারণ। হালের সংকট উতরে যাওয়ার ফরমুলাও বাতলে দেওয়া হয়েছে ঘটনার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে। ফলে নির্দ্বিধায় গ্রন্থটিকে আজকের মেধাসন্ত্রাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের যুগে পাঠকের চিন্তার দীনতা, বুদ্ধির অপূর্ণতা এবং সাহস ও কৌশল প্রয়োগের ভয়াতুর জড়তা থেকে মুক্তির সিলেবাস বলা যেতে পারে।

লেখক:

অনুবাদক:

ফাহাদ আবদুল্লাহ

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

312

প্রকাশকাল:

মার্চ, ২০২২

কোয়ালিটি:

হার্ডকভার

রেটিং:
(4 customer reviews)

4 reviews for ইতিহাসের ধূসরখাতা

  1. Arafat Shaheen

    ইতিহাস এমন একটি বিষয়—যা পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে কারও কাছে একেবারেই বিরক্তিকর; আবার কেউ কেউ অতি আগ্রহভরে এই কঠিন বিষয়টি নিয়েই মেতে থাকেন। এক কঠিন বাস্তবতা হলো, দ্বিতীয় দলের মানুষই তুলনামূলক কম। তবে একেবারে নগন্য নয়।
    একাডেমিকভাবে ইতিহাস পড়ে আসার কারণে এই বিষয়টিকে খুব একটা জটিল বলে মনে হয় না। বরং আমি সব সময় ইতিহাসের নানান গলি-ঘুপচিতে পদচারণা করে নতুন নতুন বিষয় জেনে সীমাহীন আনন্দবোধ করি। আর ইতিহাসের জটিল বিষয়গুলো যদি ইসমাইল রেহানের মতো লেখকের জাদুময় কলমের লেখা হয়—তাহলে তো কোনো কথাই নেই!

    সাম্প্রতিক সময়ে যে ক’জন বিদেশি লেখক ইতিহাসের ক্ষেত্রে এই বাংলার পাঠকদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন, ইসমাইল রেহান তাদের মধ্যে অন্যতম। আমি তার গুণমুগ্ধ পাঠক। বিশেষ করে তিনি যখন জটিল কোনো বিষয়কে একেবারে সহজ করে উপস্থাপন করেন, তখন ইতিহাসকে ‘ছেলের হাতের মোয়া’র মতোই মনে হয়। এর মানে কিন্তু এই নয় যে, তার লেখায় তথ্যের কমতি থাকে! বরং সহজ ভাষায় বলতে গেলে ইসমাইল রেহানের লেখা তথ্যের ভারে জর্জরিত নয়—যাতে একজন পাঠক অল্পতেই বিরক্তবোধ করবে।


    কালান্তর প্রকাশনী ইতোপূর্বে সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহের জীবনী প্রকাশ করেছিল। সেটি পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে। এবার তাদের নতুন আয়োজন ‘ইতিহাসের ধূসরখাতা’।
    মাত্র বাইশ পৃষ্ঠার একটা সংক্ষিপ্ত পিডিএফ পড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে। বইয়ের নাম দেখেই আমি কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলাম। শর্ট পিডিএফ-এ চোখ বুলিয়ে সেটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চোখে পড়েছে আমার; যা নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য জানা জরুরি বলে মনে হয়েছে।

    ‘ইতিহাসের ধূসরখাতা’ লেখকের বেশ কয়েকটি লেখার সংকলন। বলা বাহুল্য, সবগুলো লেখার বিষয়বস্তুই ইতিহাস। তিনি ইতিহাসের আকরগ্রন্থগুলো ঘেটে এমন কতগুলো টপিক তুলে এনেছেন—যা যেকোনো সচেতন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্যই যথেষ্ট।


    মোট আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত ‘ইতিহাসের ধূসরখাতা’।
    প্রথম অধ্যায়ে ‘শাস্ত্রীয় আলাপ’ তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের তথাকথিত সেক্যুলার লেখকগণ পারলে তো বলে দেন—ইতিহাসের সঙ্গে ধর্মের (বিশেষ করে ইসলাম) কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু লেখক এর সমুচিত জবাব দিয়েছেন। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করার সুবাদে দেখেছি—কীভাবে ইসলামের ইতিহাস পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মহান সাহাবিদের গালি দেওয়া শেখানো হয়! ফলে এই বিষয়টি যে অতি গুরুত্বপূর্ণ তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।
    এই অধ্যায়ে আরও দুটি বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে। মহান খলিফা উমর ইবনু আবদুল আজিজ এবং খিলাফতের গঠনপ্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলাপ করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় অধ্যায়ে পাঁচটি শিরোনামে বেশ কয়েকজনের জীবনী আলোচিত হয়েছে। তারা হলেন—সমুদ্র ঈগল হিসেবে পরিচিত খাইরুদ্দিন বারবারোসা, বার্বার সিংহ হিসেবে পরিচিত ইউসুফ বিন আশফিন, সম্রাট বাবর ও দীনে ইলাহি, আবুল ফজল, মুজাদ্দিদে আলফে সানি। এছাড়া ‘নির্মাণ ও ধ্বংসের দুই রূপকার’ শিরোনামে আলোচনা এসেছে।


    তৃতীয় অধ্যায়ে উসমানি খিলাফত ও আধুনিক তুরস্ক নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের ‘মুসতফা কামাল থেকে রজব তাইয়িব এরদোগান’ শিরোনামের লেখাটি বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
    চতুর্থ অধ্যায়ে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ—ইবনু ইসহাকের সিরাত-গ্রন্থ, সহিহ ইবনু হিব্বান ও তাতহিরুল জিনান গ্রন্থের পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে।

    ইতিহাস শুধুমাত্র পড়ার বিষয়ই নয়; বরং এর থেকে গ্রহণ করার মতো বহু শিক্ষাও রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের দুটি মর্মান্তিক ঘটনা—কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা এবং আন্দালুসের পতনের ঘটনায় যে শিক্ষা রয়েছে, তা উপস্থাপন করা হয়েছে।
    ষষ্ঠ অধ্যায়ে গোপন সংগঠন ‘দোনমে ই*য়া* হুদি’ ও বিশ্বব্যাপী জা*য়*ন বাদী ষড়যন্ত্র নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।


    ইতিহাস জানার জন্য ভ্রমণকাহিনী অতি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ইতিহাসের ধূসরখাতা’ থেকে তাই ভ্রমণকাহিনীও বাদ যায়নি। ভারতের পরাক্রমশালী শাসক শেরশাহ সুরিকে খুঁজে ফিরেছেন লেখক এবং আমাদের জন্যও তা উপস্থাপন করেছেন।
    একেবারে শেষ অধ্যায়েও বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। দীনের সুরক্ষায় যাঁদের অবদান, পশ্চিমাদের বিভৎস চেহারা, জার্মানি ও মুসলিমবিশ্ব, আকবরের ধর্মদ্রোহিতা এবং সেই যুগের ইসলামি প্রতিরোধ শিরোনামের লেখাগুলো পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হবে বলেই বিশ্বাস করি।


    সবমিলিয়ে ‘ইতিহাসের ধূসরখাতা’ বইটিকে আমার কাছে ইতিহাসের ওপর একটি ভিন্নধর্মী প্যাকেজ বলে মনে হয়েছে। কারণ, এখানে ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    সাধারণত ইতিহাসের বইয়ে একটি নির্দিষ্ট টপিকের ওপর আলোচনা থাকে। কিন্তু এই বইটি ব্যতিক্রম। তাছাড়া, পত্রিকার পাতা ঘেটে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো খুঁজে বের করে অনুবাদকর্ম সম্পাদন করা বেশ দুরূহ কাজ। এই বিষয়টি হয়ত অনেকের মাথাতেই আসবে না। কালান্তর প্রকাশনী এজন্য একটা ধন্যবাদ পেতেই পারে।

    মূল লেখার বাইরে আলাদাভাবে কিছু টীকাটিপ্পনীও সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে, সংশয়পূর্ণ কোনো বিষয় পাঠকের কাছে স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে।

    এককথায় বলতে গেলে—’ইতিহাসের ধূসরখাতা’ পাঠ করার জন্য ইতিহাসের একজন পাঠক হিসেবে আমি একেবারে মুখিয়ে আছি।

  2. Amit Hasan

    কোন ঘটনাই পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যায় না। কেবল বর্তমান থেকে অতীতে রূপান্তরিত হয়ে তৈরি করে ইতিহাস। আর এই ইতিহাস কাজ করে অনেকটা দর্পণের ন্যায়। দর্পণকে যেমন আমরা বানিয়েছি আমাদের বাহ্যিকতা দেখার বস্তু। ঠিক তেমনি ইতিহাসের প্রতিটি পাতা প্রদর্শন করে অতীতের বিজয়গাঁথা কিংবা পরাজয়ের গ্লানি। উভয় থেকেই আমরা লাভ করতে পারি মননশীল চেতনা যাকে লাগিয়ে আমরা আমাদের জাতীয়তাবোধকে জাগ্রত করে নিজ জাতির পরিচয়কে বিস্তৃত করতে পারি। ইসলামের ইতিহাস ও সেই একই মূল্যবোধ ধারণ করে।

    প্রকাশিতব্য বইয়ের শর্ট পিডিএফ হতে যতটুকু অনুধাবন করা যায় তা হলো এটি গতানুগতিক ইতিহাসের লেখ্য নয়। বরং এটি ব্যতিক্রমধর্মী ইতিহাসের উপাখ্যান। সচরাচর ইতিহাস গ্রন্থের চেয়ে ব্যতিক্রম গ্রন্থটির ৮টি অধ্যায়ের পৃথক ৩০ টি শিরোনামে উঠে এসেছে লেখকের বিভিন্ন সময়ে লেখা তথ্যবহুল অসাধারণ কিছু প্রবন্ধের সংকলায়ন। তাই বইটি পাঠে কারো একঘেয়েমিতা কাজ করবে বলে মনে হয় না। টাইম মেশিনের ন্যায় পাঠক কখনও পরিচিত হবেন কিছু শাস্ত্রীয় আলাপের আবার কখনও মুখোমুখি হবেন কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি ও তাঁদের দর্শনের, তাঁদের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার। আবার কখনও মিশে যাবেন উসমানি খিলাফত, তুরস্ক ও তুর্কি জনতার সাথে। কখন ও বেরিয়ে পড়বেন সফরনামায়। আবার উপলব্ধি করবেন কিছু ক্ষত ও ষড়যন্ত্রের; যেগুলো তাদের হৃদয়ে দাগ কাটবে বলে আশা করা যায়। পরিশেষে ইতিহাস মানেই ফিরে দেখা। পাঠক প্রত্যক্ষ করবেন এমন কিছু স্বর্ণালি ইতিহাসের যার বেদনা বিধুর শেষ অধ্যায় গুলো এখনো শিক্ষার উপকরণ হিসেবে কাজে লাগানো যায়।

    সর্বোপরি শর্ট পিডিএফের আলোকে যেটুকু পড়েছি সেটুকুর অনুবাদ ঝরঝরে সাবলীল মনে হয়েছে। আশা করছি পুরো বইটিতে তা অব্যাহত থাকবে। বইটি পাঠের মাধ্যমে অজানা কিছু ইতিহাসের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। যা ইতিহাসপ্রেমী পাঠকের ইতিহাস পাঠের তৃষ্ণাকে আরো বর্ধিত করবে ইনশাআল্লাহ।

  3. Md. R. Hossain Khan

    ◾প্রারম্ভিক কথন-
    ————————————-
    ইতিহাস হচ্ছে একই মূদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। অর্থাৎ ইতিহাসের যেমন ভালো দিক রয়েছে, ঠিক তেমনি মন্দ দিকও রয়েছে। ভালো-মন্দ উভয়ের সংমিশ্রণই হলো ইতিহাস। যে জাতি ইতিহাস সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখে এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সে জাতি তত বেশি উন্নত। আর যে জাতি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, সে জাতি কখনোই সফলতার শীর্ষে পৌছাতে পারেনা।
    উপমহাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উপনিবেশবাদের যাঁতাকলে আবদ্ধ থাকার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা পাশ্চাত্যমুখী হয়ে পড়ে। যার ফলে এমন অনেক ইতিহাস আছে যেগুলো চাপা পড়ে গেছে। আর সেই চাপা পড়া ইতিহাসকে অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সামনে এনে নবপ্রজন্মকে জানার ও জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দিচ্ছেন কিছু দীনি লেখক। যাদের মধ্যে অন্যতম মাওলানা ইসমাইল রেহান। তার একটি অনবদ্য গ্রন্থ “ইতিহাসের ধূসরখাতা” সদ্য প্রকাশ করেছে “কালান্তর প্রকাশনী” এবং তা বাংলায় ভাষান্তর করেছেন আরেকজন দীনি লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ।

    ◾বইকথন-
    —————————–
    যেকোন সদ্য প্রকাশিত বইয়ের প্রতি বিশেষকরে সূচিপত্রের দিকে পাঠকের আলাদা একটা নজর থাকে। কেননা সূচিপত্র দেখলেই পুরো বইয়ের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে যথেষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। আর সেজন্যই বইটিকে পাঠকের সুবিধার্থে ও সহজতর করার লক্ষ্যে মোট ৮টি অধ্যায়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায় আবার কতকগুলো শিরোনামের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অধ্যায়গুলো নিম্নরূপ-

    ১) শাস্ত্রীয় আলাপ
    ২) ব্যক্তি, ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তি-দর্শন
    ৩) উসমানি খিলাফত, তুরষ্ক ও তুর্কি জনতা
    ৪) মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা
    ৫) ইতিহাস থেকে শিক্ষা
    ৬) ষড়যন্ত্রতত্ত্ব
    ৭) সফরনামা (ভ্রমনবৃত্তান্ত)
    ৮) ইতিহাসের পলেস্তারা

    ◾বইটিতে যা থাকছে-
    —————————————–
    মাওলানা ইসমাইল রেহানের বই মানেই গোছানো ও ব্যতিক্রমধর্মী ইতিহাসের স্বাদ পাওয়া। যা পাঠকের জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রেও আলাদা মাত্রা যোগ করবে। যেখানে তথ্যের ধারাবাহিকতার ছোঁয়া তো রয়েছেই।

    শর্ট পিডিএফের আলোকে বইটি কেমন হতে পারে আর যে যে বিষয় থাকছে তা নিম্নরূপ –

    ▪️ইতিহাস কি ইসলাম বিবর্জিত বিষয়? শরিয়তবিরোধী বিষয়? এমন প্রশ্ন পাঠকের মাথায় সবসময় ঘুরপাক খেতেই থাকে। যার একপর্যায়ে এসে পাঠক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যান। আর এজন্য শুরুতেই দলিলভিত্তিক রেফারেন্সের মাধ্যমে এসবের যথোপযুক্ত আলোচনা করা হয়েছে।

    ▪️পাঠককে আরেকবার নতুন করে প্রবন্ধের মাধ্যমে অন্যধাঁচে পরিচয় করিয়ে দিবে ইসলামের ইতিহাসে সমুদ্র ঈগল খাইরুদ্দিন বারবারুসা ও বার্বার সিংহের সঙ্গে এছাড়াও পরিচয় করাবে আবুল ফজল, মুজাদ্দিদে আলফে সানির মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে। অন্যদিকে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মদ্রোহিতা ও এর কারণ এবং সেযুগের ইসলামি প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনাও করা হয়েছে। যা সূচিপত্রের শিরোনাম দেখলেই অনুধাবন করা যায়।

    ▪️উসমানি খিলাফত ও তার পরবর্তী সময়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নামক স্নায়ুযুদ্ধ, মুস্তফা কামাল থেকে এরদোগান অর্থাৎ তুরষ্ককে কেন্দ্র করে অতীত ও বর্তমান সময়ের পর্দার আড়ালে থাকা অনেক অজানা ইতিহাস জানা যাবে প্রবন্ধের মাধ্যমে।

    ▪️পাঠক বইটি অধ্যয়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিখ্যাত গ্রন্থ গুলো সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করতে পারবে আবার অন্যদিকে সমালোচকদের সমালোচনা সম্পর্কেও অবগত হতে পারবে। যার ফলে জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে আবার নিজ থেকেই মূল্যায়ন করার যোগ্যতাও তৈরী হবে।

    ▪️ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষকরে, দশ মহররমের শিক্ষা, হারানো আন্দালুস (স্পেন) অর্থাৎ আন্দালুসের শেষ অধ্যায় থেকেও অনেক কিছু শিক্ষা নেয়ার আছে।

    ▪️সাধারণ সেনাকর্মচারী হয়েও কিভাবে একজন দক্ষ প্রশাসক, যোগ্য সেনানায়ক ও এর পরবর্তীতে যোগ্য শাসক হয়ে ওঠার পাশাপাশি কিছু স্থাপত্য নির্মাণের জন্য অমর হয়ে আছেন। তা সম্রাট শের শাহ সুরি সম্পর্কিত ইতিহাস অধ্যয়ন করলেই বোঝা যায়। লেখক সফরনামা নামক আলাদা একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়েই তা সুবিস্তর আলোচনা করেছেন। যা সূচিপত্রের শিরোনাম থেকে অনুমেয়।

    ▪️গুপ্ত সংগঠন গুলোর ব্যাপারে মুসলিম সমাজে কেন জানিনা একধরনের অন্যমনস্কতা, বেখেয়ালিপনা কাজ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিষয়ে কিছু সিক্রেট বিষয় আছে। যা এখনো পর্যন্ত অপ্রকাশিত। কেননা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে যেই ইউরোপ থেকে ইহুদীদেরকে বের করে দেয়া হয়, তার পরবর্তী সময়ে সেই ইহুদীরাই আবার ইউরোপে স্থায়ী বসবাসের জন্য জায়গা করে নেয়। সঙ্গে এই মর্মে আইন পাস করায় যে, যারা ইহুদীদের বিরুদ্ধে টুঁশব্দ করবে তাদের শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি যে লেখক ধরতে পেরেছেন তা সূচিপত্রের শিরোনাম দেখলেই অনুধাবন করা যায়। পাশাপাশি জায়নবাদী নীল নকশা সম্পর্কেও বিস্তর আলোচনা করেছেন।

    ▪️পরিশেষে, লেখক তার লেখনীতে পশ্চিমাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি অর্থাৎ পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কুৎসিত চেহারা ও ইসলাম বিদ্বেষ প্রকাশ করেছেন। আবার, অন্যদিকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান রয়েছে তার সারনির্যাস নিয়েও তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।

    ◾শর্ট পিডিএফ পড়ার পর পাঠ্যানুভূতি–
    ———————————————————
    বইটির শর্ট পিডিএফের কিছু অংশ পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছে। যদিও শর্ট পিডিএফের কিছু পৃষ্ঠা পড়ে পুরো বই সম্পর্কে মন্তব্য করা অনেক কঠিন একটা ব্যাপার। তারপরেও বলবো শর্ট পিডিএফের প্রতিটি পৃষ্ঠা আমার কাছে এককথায় অসাধারণ লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে তথ্যের ধারাবাহিকতার বিষয়টি। প্রবন্ধের মাধ্যমেও এত বিস্তর ইতিহাস জানা যায় তা এই বইয়ের শর্ট পিডিএফের কিছু অংশ না পড়লে কখনোই অনুধাবন করতে পারতাম না। এতে করে পাঠকের জ্ঞানের ভান্ডারও অনেক সমৃদ্ধ হবে।

    তাছাড়া, বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি মূল গ্রন্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে অনুবাদ করায় অনুবাদের মান আরো ঝরঝরে, সাবলীল আর প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। যা সূচিপত্র ও শুরুর দিকের পৃষ্ঠাগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লেই অনুধাবন করা যায়। অনুবাদ করার ক্ষেত্রেও বেশ দক্ষতার পরিচয় পেয়েছি। রচনাশৈলী, বাক্যবিন্যাস, শব্দচয়ন খুবই চমৎকার লেগেছে। রেফারেন্স হিসেবে প্রবন্ধগুলোর শেষে গ্রন্থপুঞ্জ উল্লেখ করে দিয়েছেন। যেটা মূল লেখকের বইতে নেই কিন্তু “কালান্তর প্রকাশনী” নিজ উদ্যোগ নিয়ে তা করেছেন। যা সত্যিই অনন্য। এছাড়াও শুরুর দিকের আলোচনার অংশে কুরআনের আয়াতের পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহীহ হাদীস উদ্ধৃত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পৃষ্ঠা গুলো পড়ার সময় কোন মূদ্রণজনিত ভুল বা বানান ভুল চোখে পড়নি। যা পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

    ◾অভিমত-
    —————————-
    লেখক তার বইতে উপমহাদেশের ‘মুঘল সাম্রাজ্য’থেকে শুরু করে ‘উসমানি খিলাফত’ আবার বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে পাশ্চাত্যের ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব অর্থাৎ অন্তরালে থাকা ইতিহাসের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করেছেন।

    তাই, সবমিলিয়ে বলা যায় পাঠক ইতিহাসের অতীত-বর্তমান মিশ্রিত একটি অনবদ্য গ্রন্থ পেতে যাচ্ছে।

    ◾একনজরে বই-
    ————————————-
    ▪️বই : ইতিহাসের ধূসরখাতা
    ▪️মূল লেখক : মাওলানা ইসমাইল রেহান
    ▪️অনুবাদক : ফাহাদ আবদুল্লাহ
    ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩১২
    ▪️বাইন্ডিং : হার্ড কভার
    ▪️প্রকাশনী : “কালান্তর প্রকাশনী”
    ▪️প্রচ্ছদ মূল্য : ৩৮০ টাকা

  4. সিরাজাম বিনতে কামাল

    ◾প্রারম্ভিকা:
    ________________

    “তাদের ঘটনায় বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১১১]

    পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবী ও আগের অনেক জাতির ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ইতিহাসের সত্য ও শিক্ষার দিকে ধাবিত করা। ইতিহাস চির মুখর। যুগ-যুগান্তর ধরে মানব সভ্যতার চলমান জীবনধারাই ইতিহাস। ইতিহাসে রয়েছে নানা রক্ত-রঞ্জিত দৃশ্যপট, রয়েছে নির্ঘুম রজনীর গল্প, রয়েছে দুঃস্বপ্নের কাহিনী, রয়েছে উত্থান পতন, চেষ্টার তরঙ্গ, রয়েছে সামাজিক পরিবর্তন। আজ যা অতীত, আগামীকাল তা ইতিহাস। ইতিহাস অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের সাধনা, ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। ইতিহাসকে বলা হয় মানবজাতির দপর্ণ।

    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমাদের মুসলিমদের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, তাবারি, ইবনে সাদ প্রমুখ ঐতিহাসিক এবং তাঁদের উত্তরসূরীগণ ইসলামের ইতিহাস সংরক্ষণ করে বিশ্বস্ততার সাথে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করেছেন। দেখা যায়, অন্যান্য জাতির ইতিহাসচর্চার প্রাথমিক ভিত পৌরণিক নানান মিথের উপর। কিন্তু মুসলিমদের ইতিহাস অন্যান্যদের ইতিহাস থেকে অনেক বেশিই বিশুদ্ধ এবং সমৃদ্ধ। কিন্তু ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইসলামের শত্রুরা বারবারই আমাদের ইতিহাস নানাভাবে মুছে দেওয়ার পাঁয়তারা করে আসছে। মুসলিমদের ইতিহাসবিমুখতা তাদের কাজকে যেনো আরও সহজ করে দিচ্ছে।

    .

    ◾বই সম্পর্কে:
    _________________

    ইতিহাস যখন ধূলিমলিন, ইতিহাসে যখন ইসলামের শত্রুদের জয়জয়কার- ঠিক এমনই একটি সময়ে কালান্তর প্রকাশনী নিয়ে আসছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক “ইসমাইল রেহান” এর নানা প্রবন্ধের সংকলন বই “ইতিহাসের ধূসরখাতা”। অনুবাদ করেছেন এ সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল অনুবাদক ফাহাদ আবদুল্লাহ।

    অনুবাদ হলেও অনুবাদকের বেশ খাটতে হয়েছে যেহেতু প্রবন্ধগুলো বেছে বেছে সংগ্রহ করা হয়েছে। যতটুকু দেখেছি বইয়ের অনুবাদ সহজবোধ্য হয়েছে। কোনো বানান বিভ্রাট চোখে পড়েনি। আবার অনুবাদকের ভাষ্যমতে পাঠকের সুবিধার্থে কিছু কিছু জায়গায় ভাবানুবাদ করা হয়েছে। যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বর্তমানের আলোকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি, স্থান, স্থাপনার পরিচয়। আরও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় টীকা এবং রেফারেন্স। যা বইটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

    .

    ◾বই অভ্যন্তরে:
    _________________

    মোট আটটি অধ্যায়ে বইটি সজ্জিত হয়েছে।
    বইটিতে ইতিহাস বর্ণনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা হয়েছে। যেমন প্রথমেই রয়েছে- ইসলামেই ইতিহাসের উৎপত্তি, খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ এবং খিলাফত গঠনপ্রকৃতি। রয়েছে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের পরিচয় ও তাঁদের দর্শন। থাকবে উসমানি খিলাফতের সময়কাল থেকে শুরু করে বর্তমান তাইয়িব এরদোগান ও তুর্কি জনতার অবদান। বইটিতে রয়েছে ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা, রয়েছে ইতিহাস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা, আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র, শেরশাহ সুরির স্মৃতিতে তাঁর সময়ে সফর, অবশেষে কিছু অজানা সত্য যা আমাদের কেউ জানাবে না অর্থাৎ পশ্চিমাদের বীভৎস চেহারা, জার্মানি ও মুসলিমবিশ্ব, আকবরের ধর্মদ্রোহিতা ইত্যাদি।

    .

    ◾শর্ট পিডিএফ পড়ে অনুভূতি:
    ___________________________

    শর্ট পিডিএফ পড়ে আর সূচিপত্র থেকে বইটি সম্পর্কে অল্পই ধারণা পাওয়া গেছে যদিও আশা করি বইটি আমাদের জন্য অনেক অজানা সত্য জানাতে সহায়ক হবে। বইটি আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে নাড়িয়ে তোলবে। আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট হবো। ইতিহাসের প্রতিও উৎসাহিত হবো। পরবর্তীতে আমরা ঘুরে বেড়াবো ইতিহাসের অলি-গলি। আমরা দেখবো নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কত বেখবর!

    ইতিহাস সম্পর্কিত বই আমার খুব কমই পড়া হয়েছে। গতবছর “ইসলামি সাহিত্য ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড” এর উছিলায় প্রথম ইতিহাস পাঠে মনোযোগী হই। তখন “লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি” পড়ে মনে হয়েছে ইতিহাস পাঠ শুরু করতে একটু বেশি দেরি করে ফেলেছি। আরও আগেই আমাদের মুসলিমদের ইতিহাস জানা উচিত ছিলো।

    ঘটনার নিরন্তর সত্যানুসন্ধানই হচ্ছে ইতিহাস। আশা করি, এই বইটিও আমাদের সত্যের সন্ধান দিবে। একদমই নতুন এবং ভিন্ন কিছু ঘটনা জানাবে, ইন শা আল্লাহ! তো পাঠক আর দেরি কেনো, নিজেদের ইতিহাস জানার এই যাত্রায় শামিল হতে পারেন আপনিও।

Add a review

Your email address will not be published.