Back Cover
কিছু পড়ে দেখুন

বিশ্বাসের বহুবচন (শাপলা থেকে শাহবাগ)

লেখক:

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

৩৬৮

প্রচ্ছদ:

ইনাম বিন সিদ্দিক

কোয়ালিটি:

হার্ডবোর্ড বাধাই, ৮০ অফহোয়াইট পেপার

প্রকাশকাল:

মে, ২০১৮

সংস্করণ:

অক্টোবর ২০১৮

ISBN:

9 789849 071426

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(2 customer reviews)

৳ 255

শাহবাগ বললে এখন আর নাস্তিকতার কথা আলাদা করে বলা লাগে না। শাপলা বললে সাঁতার না-জানা বাচ্চাদের হাবুডুবু খাওয়া দৃশ্যের পাশাপাশি কিছু মুনাফিকের চেহারাও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আর কওমি ছেলেরা তো বরাবরই, ঠিক যেমন আগেই বলেছি—বিশ্বাসের কাঁচামাল।

শাহবাগের গণজাগরণকে খেয়েছে অ্যান্টি-ইসলাম বখাটে এবং ধান্ধাবাজ কিছু ব্লগার। হেফাজতের গণজাগরণকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে আলেম নামধারী কিছু রাজনৈতিক মুনাফিক।

‘বিশ্বাসের বহুবচন’ হলো শাপলা এবং শাহবাগের পাণ্ডুলিপি একটু নেড়ে দেখা। বলা চলে নতুন করে হাশিয়া লেখা। সাথে একটু কওমিনামা। যাদের কাছে মনে হবে—কথা সত্য, তাদের জন্য ভালোবাসা। যাদের গা একটু জ্বালাপোড়া করবে, তাদের জন্য এন্টিবায়োটিক শুভ কামনা।

বি.দ্র. : বইটির মুনাফা ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় পরিবারে দান করা হবে।

লেখক:

প্রকাশক:

কালান্তর প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যা:

৩৬৮

প্রচ্ছদ:

ইনাম বিন সিদ্দিক

কোয়ালিটি:

হার্ডবোর্ড বাধাই, ৮০ অফহোয়াইট পেপার

প্রকাশকাল:

মে, ২০১৮

সংস্করণ:

অক্টোবর ২০১৮

ISBN:

9 789849 071426

ভাষা:

বাংলা

দেশ:

বাংলাদেশ

রেটিং:
(2 customer reviews)

2 reviews for বিশ্বাসের বহুবচন (শাপলা থেকে শাহবাগ)

  1. আবুল কালাম আজাদ

    আলহামদুলিল্লাহ।

  2. শামসুল আদনান

    ২০১৩ সালে দেশবাসী বিশাল দু’টি আন্দোলন দেখেছে। হেফাজত আর গণজাগরণ মঞ্চ।
    হেফাজত আর গণজাগরণকে ব্যাখ্যা করে বুঝানোর প্রয়োজন নেই। কারন এ দু’ আন্দোলনের জীবন্ত সাক্ষী এই প্রজন্ম। হেফাজত-গণজাগরনের সাথে শাপলা ও শাহবাগ উভয় স্থান আন্দোলনের নামের সাথে জুড়ে সমার্থক হয়ে যায়।

    যেকোন আন্দোলন ছোট হোক, বড় হোক অনেক ডালপালা গজায়। হেফাজত-গণজাগরনের বেলায় সেই ডালপালা প্রকান্ড আকার ধারন করেছে। হেফাজত-গণজারণের সাথে কত ঝড়-প্রভঞ্জন, স্মৃতি-কথা-ব্যথা, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে অনেকের সেই সময়ের সাথে। আছে সত্য-মিথ্যা, গুজব, তিক্ততা। পর্দার আড়ালের অনেক কাহিনী আছে।

    কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ঐতিহাসিক এ দুই অান্দোলন নিয়ে কম করে হলেও ডজন ডজন বই বের হওয়ার কথা অথচ পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হলেও হেফাজত-গণজাগরণ কিংবা ৫ মে শাপলা ট্রাজেডি নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ও গ্রন্থিত কোন পর্যালোচনা হয়নি। রচিত হয়নি কোন ইতিহাসের বইও।
    ইতিহাসের হাত ধরে ঐতিহ্য নির্মিত হয়। তাই ইতিহাসের পাঠ নির্মোহ হওয়া প্রয়োজন। কথা রূঢ় হোক বা মিষ্ট, প্রিয় হোক অথবা অপ্রিয় সামনে আসা প্রয়োজন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ সৃজিত ও রচিত হয়েছে। সুতরাং এই দিক থেকে বিনাবাক্যে ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ প্রসংশার দাবীদার।

    হেফাজত-গণজাগরণের জন্ম-ইতিকথা, লক্ষ-উদ্দেশ্য, উত্থান-পতন, সফলতা-ব্যর্থতা, শাপলা ট্রাজেডি ও শাপলার শহীদ-আহতদের নির্মম কাহিনী এবং এখন এ দুই আন্দোলন কোথায় আছে? কেমন আছে? এসবই বর্ণনা করা হয়েছে ‘বিশ্বাসের বহুবচনে’। কিছু কওমিনামাও সাথে আছে। বইটি লেখা হয়েছে সাক্ষাৎকারাকারে। তবে আছে প্রবন্ধ, নিবন্ধও।

    হেফাজত-গণজাগরণের ফাউন্ডার, মেকানিজ, দায়িত্বশীল, আলোচিত, সমালোচিত সবার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তবে হেফাজতের সংশ্লিষ্ট দুইজনের অনেক প্রচেষ্টা করেও লেখক কোন রেসপন্স না পাওয়ায় তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। সুশীলশ্রেণীর একজন পরিচিত ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বেরও সাক্ষাৎকার আছে। তুলে ধরা হয়েছে অনেক অজানা ইতিহাস। উত্তর দেয়া হয়েছে অনেক আলোড়িত, চর্চিত ও মুখরোচক প্রশ্নের। যেমন ; ‘হেফাজত-গণজাগরণকে রাজনীতিকরণ, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিরিয়ানি প্যাকেট, বিদেশ উধাও, শাহবাগ গিয়ে জীবনের সবচে বড় নেক কাজ করেছি’ ইত্যাদি।

    লেখক নিউ ইয়ার্ক থাকেন। বইটিও সেখান থেকেই লিখেছেন। সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে লেখক কখনো ফোনে আলাপের মাধ্যমে, কখনো ইমেইলে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়ে আবার কখনো সরাসরি সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। বইটি যেহেতু সাক্ষাৎকার ধাঁচের তাহলে আপনারা বুঝতেই পারছেন লেখকের বক্তব্য এখানে যৎসামন্য। বড়জোর ৩০/৩৫%। বাকি ৭০/৬৫% বক্তব্য; হেফাজত-গণজাগরণের মেকানিজ, কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্টদের। লেখক শুধু তাদের বক্তব্য হুবহু নিজের শৈল্পিক যাদুস্পর্শী ভাষায় গ্রন্থনা করেছেন।
    তবে সাক্ষাৎকারে কিছু কিছু জায়গায় লেখক ‘সম্পূরক মন্তব্য’ জুড়ে দিয়েছেন। সম্পূরক মন্তব্যে লেখক কোন সিদ্ধান্ত বা উপসংহার টানেননি বরং প্রসঙ্গগত আলোচনা আরও খোলাভাবে উপস্থাপন করেছেন।

    কথা তো অনেক হলো। আসুন এবার ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ জগতে ঢুঁ মেরে আসি।

    ‘আসলে অনেক কথা আছে যা বাস্তবে লেখা যায় না। সব কথা বলা যাবে না। বললে মুশকিল। আমাদের আলেম-ওলামাদের লোভের দোষ। বুচ্ছেন? আমরা লোভটা যদি কন্ট্রোল করতে পারতাম, তাহলে ওখানে রাত্রে থাকতামও না, আর শক্তিও থাকতো। কথা বুচ্ছেন? লোভ কন্ট্রোল করতে পারে নাই। আর অবিবেচনা এবং রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে ছিল সেই বিপর্যয়। তারপরেও আল্লাহর রহমতে এবং আহমদ শফি সাহেব হুজুরের মজবুতির কারণে আমরা আমাদের কওমি লাইনে এখনো টিকে আছি।’
    -মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস।
    -বিশ্বাসের বহুবচন, পৃষ্টা-৩০।

    ‘ ‘রাজনীতির শিকার’ কথাটিকে খুলে বললে যা দাঁড়ায়, আমার মনে হয় তা হলো, জামায়াত-বিএনপির কারসাজিতেই হেফাজত ৫ মে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল। আর এই অবস্থানের কারণেই হেফাজত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি যতদূর জানি, অবস্থানের পেছনে সূক্ষ্মভাবে বিএনপি-জামায়াতের ভূমিকা থাকতে পারে; কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সিদ্ধান্তের আলোকেই অবস্থানে যাওয়া হয়। আর তা ছাড়া আমি বিশ্বাস করি ৫ মে হেফাজতের পরাজয় হয়নি, পরাজয় হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। তাই যদি রাজনীতির শিকার হয়ে থাকে, হয়েছে আওয়ামী লীগ। শাপলার যে রক্ত আওয়ামী লীগের হাতে লেগেছে, সেটা মুছতে অন্তত একশ’ বছর লাগবে।’
    -মাওলানা মামুনুল হক।’
    -বিশ্বাসের বহুবচন, পৃষ্টা-২৪২।

    ‘দেখুন, সব কথা আমি আপনাকে খুলে বলতে পারব না। এককথায় বলে দিই। হেফাজতকে নিয়ে কিছু লোক যে রাজনৈতিক দেনা-পাওনার হিসাব করছিল, কিছু লোক যে আল্লামা আহমদ শফীর নাম ভাঙিয়ে এবং হেফাজতের মাথা বিক্রি করে রাজনৈতিক ধান্ধা করছিল; সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই।’
    -মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।
    -বিশ্বাসের বহুবচন,পৃষ্টা-২৪৮।

    বইয়ে ‘শাপলাবাজি’ বলে লেখক খুব একটা বাড়িয়ে বলেননি। হেফাজতের ফ্রন্টলাইনের নেতা, কী-পার্সন, আই উইটনেসদের কাছ থেকে শাপলার ডবল স্ট্যান্ডবাজিও জানা যায়। আর শাহবাগবাজির কথা সর্বজনবিদিত। শব্দ বৃদ্ধি করলাম না।

    এ বইয়ের মধ্যে আমার কাছে যেটা বেশী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হল লেখক এখানে নির্মোহ ভাবে সত্যকে উপস্থাপন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছেন এবং দ্বিতীয় দৃষ্টিতে প্রথম দৃষ্টিকে পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা করেছেন। লেখক হেফাজতকে নির্মোহ রেখে নেতৃত্বকে তৃতীয় দৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারের প্রশ্নগুলা ছিল কমন ও যৌক্তিক। তবে শাপলার কিছু লিডাররা উত্তর দিতে গিয়ে প্রজ্ঞা দেখাতে পারেননি। আবার ফ্রন্টলাইনের পলিটিক্স নেতারা উত্তর দিয়েছেন থার্টি ফাইভ সিক্সটি ফাইভ ফর্মুলায়। ৩৫% বলেছেন ৬৫% উহ্য রেখেছেন। গণজাগরণের বাপ্পাদিত্য বসুর সাক্ষাৎকার পাঠকের চেতনায় পিন ঢুকবে।

    ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এর সবচে’ অনবদ্য অধ্যায় হলো শাপলার শহীদ ও আহতের খতিয়ান ও তালিকা। যে কাজ আজ পর্যন্ত হেফাজত করতে পারেনি সেই দুঃসাহসিক কাজ করেছেন লেখক। ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এ অন্তত একটা তালিকা, পরিসংখ্যান তো হয়েছে। শহীদ ও আহতদের বিয়োগান্তক, অন্তর্বেদী করুণ কাহিনী এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে।

    ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ প্রকাশের পূর্বেই কিছু ‘দরবেশ’ পাঠক বইটি নিয়ে সমালোচনায় নেমে পড়ে। ‘দরবেশ’ বলার কারন হলো যারা বই না পড়েই সমালোচনা করে তাদেরকে ‘দরবেশ’ না বলে আর কিইবা বলতে পারি।
    সেইসব দরবেশ পাঠকদের বিশাল অভিযোগ লেখক নাকি পলাশীর মূল খুনীদের মত শাপলার খুনীদের আড়াল করেছেন। তাদের অপরিপক্বতা অভিযোগেই বিদ্যামান। যে বইয়ে খুনীদের খুনের তালিকা করা হয়েছে সেই বইয়ে খুনীদের কেমনে আড়াল করা হয়!? আবার কোন কাহিনী বা বিষয়কে শুধু এক দৃষ্টিতে দেখলে হয়না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দৃষ্টিতেও দেখতে হয়। নতুবা সার নির্যাস বের হয়না। ভবিষ্যৎ উপাদান, নির্দেশনা থাকেনা। লেখক বইয়ে সব দৃষ্টিতেই শাপলা-শাহবাগকে চিত্রিত করেছেন। তবুও যারা অভিযোগ করেছেন মূল খুনীদের আড়াল করা হয়েছে তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি মূল খুনীদের অসংখ্যবার উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বলছি : আপনারা শুধু ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এর শাপলায় আহত-শহীদদের চ্যাপ্টার পড়ুন আপনাদের অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হবে। লেখক আহত-শহীদদের চ্যাপ্টারে মূল খুনীদের হিংস্রতা, পৈশাচিকতা, নির্লজ্জতা সাবলীলভাবে বর্ণনা করেছেন।
    আবার কেউ কেউ নিজ দলের নেতার অদক্ষতা, অযোগ্যতা প্রকাশের ভয়ে বই সম্পর্কে বাজে সমালোচনা করেছেন। তাদেরকে একটি কথাই বলব : লেখক হেফাজত নেতাদের গায়ের দাগকে শুভ্রতা দিয়েছেন। পড়লেই অনুধাবন করতে পারবেন।

    লেখক সবার বচনগুলা একত্রে জমাট করে ‘বিশ্বাসের বহুবচনের’ থালায় পসরা সাজিয়েছেন। সেখান থেকে ‘বিশ্বাসের একবচন’ বের করার দায়িত্ব লেখক পাঠকের হাতে সমর্পিত করেছেন। পাঠকের ‘একবচন’ বের করতে কোন বেগ পেতে হবে বলে মনে হয়না।

    সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ আমার কাছে ইতিহাসের এক প্রাতিস্বিক গ্রন্থই মনে হয়েছে। এ বই ভিন্ন স্বাদের এক ইতিহাস গ্রন্থ। হেফাজত-গণজাগরণ নিয়ে হয়ত আরও অনেক লেখা হবে। ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ সেই হিসেবে পথিকৃৎ ও প্রথম সোপান।
    তবে লেখক বইকে ইতিহাস গ্রন্থ বলে দাবী করেননি। লেখক বইকে কি বলেছেন তা লেখকের জবানেই শুনুন;
    ‘বিশ্বাসের বহুবচনকে একটি গবেষণামূলক বই ভেবে ভুল করার দরকার নেই। এটি কোন ঐতিহাসিক দলিলও হয়নি। প্রামাণ্য কোনো গ্রন্থও না। তাহলে এটি কী?
    ভুলতে না পারা হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। এটি হলো ভুলতে না পারা বেদনার কাব্য। এটি হলো বিনাশী সভ্যতার উল্লাস নৃত্য। এটি হলো বুলেটপ্রুপ জ্যাকেট-জড়ানো প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ। এটি একটি পুতুলের গল্প ; যে পুতুল যেমনে নাচার, তেমনে নেচেছিল।’
    -বিশ্বাসের বহুবচন,পৃষ্টা- ১৪।

    এ মাতৃভূমির ঘোর লাগা, উত্তপ্ত ও অদ্ভুততম এক সময়ের এ পান্ডুলিপি, উপাখ্যান যারা এখনও পড়েন নি, তাদের নিমন্ত্রণ ।
    শেকড়সন্ধানী ও অনুসন্ধিৎসু পাঠক মাত্রই বইখানি পড়া উচিৎ।

    লেখক পরিচিতি :

    রশীদ জামীলকে বহু অভিধায় অভিষিক্ত করা যায়। মুশকিল হলো কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব ভেবে পাচ্ছিনা। প্রায় ৩৫ টা পাঠকপ্রিয় বইয়ের রচয়িতা। প্রত্যেক বইয়ের আবার চার-পাঁচবার পুনঃমুদ্রণ হয়েছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের শ্রেষ্ট তরুণ কলামিস্ট হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত।
    লেখক রশীদ জামীলের ব্যাপারে কিছু বলাই বাহুল্য । তার প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশের মতো উপযুক্ত বিশেষণ আমার জানা নেই। এই লেখকের ক্ষেত্রে আমার ফিলোসফিটা হলো তার লেখা দ্রুত পড়তে মন সাড়া দেয় না, ইচ্ছে হয় বইটা শেষ না করি । নতুন কোন বই আমার জন্যে লিখছেন লেখক, এমন কল্পনা নিয়ে সমাপ্তি দেই।
    অসাধারণ সাহিত্য রসবোধ তার। কঠিনকে সহজ ও সাবলীল ভাবে উপস্থাপনে তিনি অতুলনীয়। সত্য প্রকাশে কাউকে তোয়াক্কা করেননা।
    ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ পড়ার সময় কিছু কিছু জায়গায় বারবার থামতে হয়, খোলা জানলা দিয়ে বাইরের আকাশের দিকে চোখ চলে যায়। অজান্তে চোখের কোণে জমে যায় নোনাজল। কোথাও আবার নাড়িয়ে দেয় ভেতর। স্পর্শ করে হৃদয়ের অতলে। আর এটাই হলো লেখকের মুন্সিয়ানা। তবে লেখক ‘বিশ্বাসের বহুবচনে’ আরবী আয়াত/বাক্যগুলোর তরজমাসহ দিলে সর্বমহলের পাঠকের উপকার হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিটেইল আরো হওয়া উচিৎ ছিল। লেখক-প্রকাশক ‘বিশ্বাসের বহুবচন-২’ এর একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। হয়ত সেসব ডিটেইল ‘বহুবচন-২’ এ উন্মুক্ত হবে।
    রশীদ জামীলের লেখা যেকোন বই চোখ বন্ধ করে হাতে তুলে নেয়া যায় । আর ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। একটা মাস্টার পিস।

    কিছু বই আছে চায়ের দোকানে আড্ডা মেরে লেখা যায়। কিন্তু ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এর মত বই আড্ডা মেরে লেখা যায়না। অনেক অনেক শ্রমসাধ্য কাজ। ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ লিখতে গিয়ে লেখক অনেক কাঠখড় পাড়ি দিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বইয়ের প্রতিটা পাতায় পাতায় লেখকের ঘামের চিহ্ন প্রতীয়মান হয়। এতো পরিশ্রম সাধ্য কাজের রাইটার রয়্যালিটির একটি পয়সাও লেখক নেননি। উৎসর্গিত করেছেন শাপলার শহীদ-আহত পরিবারে।
    এরপরেও যারা বলেন লেখক নিজেকে আলোচিত করার জন্যে এমন বই লিখেছেন তাদের প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছুই নেই। তবে এসবের মূল কারন হচ্ছে কওমি অঙ্গনে সমালোচনাটা এখনও নান্দনিক হয়ে উঠেনি। লেখক এসবের উর্ধে উঠে কিছু করায় বালখিল্য কিছু কথায় জর্জরিত হন। তবে লেখক সমোলোচকদের এন্টিবায়োটিক শুভকামনা জানিয়েছেন বইয়ে।

    পরিশেষে আমি লেখকের সার্বিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন এই প্রিয় লেখককে শত-সহস্র বৎসর আমাদের মাঝে আলোকবর্তিকা হিসেবে জীবিত রাখেন প্রার্থনা করি।
    রেটিং ; ৮.৪/১০

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Editorial Review

শামসুল আদনান

২০১৩ সালে দেশবাসী বিশাল দু’টি আন্দোলন দেখেছে। হেফাজত আর গণজাগরণ মঞ্চ।
হেফাজত আর গণজাগরণকে ব্যাখ্যা করে বুঝানোর প্রয়োজন নেই। কারন এ দু’ আন্দোলনের জীবন্ত সাক্ষী এই প্রজন্ম। হেফাজত-গণজাগরনের সাথে শাপলা ও শাহবাগ উভয় স্থান আন্দোলনের নামের সাথে জুড়ে সমার্থক হয়ে যায়।

যেকোন আন্দোলন ছোট হোক, বড় হোক অনেক ডালপালা গজায়। হেফাজত-গণজাগরনের বেলায় সেই ডালপালা প্রকান্ড আকার ধারন করেছে। হেফাজত-গণজারণের সাথে কত ঝড়-প্রভঞ্জন, স্মৃতি-কথা-ব্যথা, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে অনেকের সেই সময়ের সাথে। আছে সত্য-মিথ্যা, গুজব, তিক্ততা। পর্দার আড়ালের অনেক কাহিনী আছে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ঐতিহাসিক এ দুই অান্দোলন নিয়ে কম করে হলেও ডজন ডজন বই বের হওয়ার কথা অথচ পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হলেও হেফাজত-গণজাগরণ কিংবা ৫ মে শাপলা ট্রাজেডি নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ও গ্রন্থিত কোন পর্যালোচনা হয়নি। রচিত হয়নি কোন ইতিহাসের বইও।
ইতিহাসের হাত ধরে ঐতিহ্য নির্মিত হয়। তাই ইতিহাসের পাঠ নির্মোহ হওয়া প্রয়োজন। কথা রূঢ় হোক বা মিষ্ট, প্রিয় হোক অথবা অপ্রিয় সামনে আসা প্রয়োজন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ সৃজিত ও রচিত হয়েছে। সুতরাং এই দিক থেকে বিনাবাক্যে ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ প্রসংশার দাবীদার।

হেফাজত-গণজাগরণের জন্ম-ইতিকথা, লক্ষ-উদ্দেশ্য, উত্থান-পতন, সফলতা-ব্যর্থতা, শাপলা ট্রাজেডি ও শাপলার শহীদ-আহতদের নির্মম কাহিনী এবং এখন এ দুই আন্দোলন কোথায় আছে? কেমন আছে? এসবই বর্ণনা করা হয়েছে ‘বিশ্বাসের বহুবচনে’। কিছু কওমিনামাও সাথে আছে। বইটি লেখা হয়েছে সাক্ষাৎকারাকারে। তবে আছে প্রবন্ধ, নিবন্ধও।

হেফাজত-গণজাগরণের ফাউন্ডার, মেকানিজ, দায়িত্বশীল, আলোচিত, সমালোচিত সবার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তবে হেফাজতের সংশ্লিষ্ট দুইজনের অনেক প্রচেষ্টা করেও লেখক কোন রেসপন্স না পাওয়ায় তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। সুশীলশ্রেণীর একজন পরিচিত ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বেরও সাক্ষাৎকার আছে। তুলে ধরা হয়েছে অনেক অজানা ইতিহাস। উত্তর দেয়া হয়েছে অনেক আলোড়িত, চর্চিত ও মুখরোচক প্রশ্নের। যেমন ; ‘হেফাজত-গণজাগরণকে রাজনীতিকরণ, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিরিয়ানি প্যাকেট, বিদেশ উধাও, শাহবাগ গিয়ে জীবনের সবচে বড় নেক কাজ করেছি’ ইত্যাদি।

লেখক নিউ ইয়ার্ক থাকেন। বইটিও সেখান থেকেই লিখেছেন। সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে লেখক কখনো ফোনে আলাপের মাধ্যমে, কখনো ইমেইলে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়ে আবার কখনো সরাসরি সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। বইটি যেহেতু সাক্ষাৎকার ধাঁচের তাহলে আপনারা বুঝতেই পারছেন লেখকের বক্তব্য এখানে যৎসামন্য। বড়জোর ৩০/৩৫%। বাকি ৭০/৬৫% বক্তব্য; হেফাজত-গণজাগরণের মেকানিজ, কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্টদের। লেখক শুধু তাদের বক্তব্য হুবহু নিজের শৈল্পিক যাদুস্পর্শী ভাষায় গ্রন্থনা করেছেন।
তবে সাক্ষাৎকারে কিছু কিছু জায়গায় লেখক ‘সম্পূরক মন্তব্য’ জুড়ে দিয়েছেন। সম্পূরক মন্তব্যে লেখক কোন সিদ্ধান্ত বা উপসংহার টানেননি বরং প্রসঙ্গগত আলোচনা আরও খোলাভাবে উপস্থাপন করেছেন।

কথা তো অনেক হলো। আসুন এবার ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ জগতে ঢুঁ মেরে আসি।

‘আসলে অনেক কথা আছে যা বাস্তবে লেখা যায় না। সব কথা বলা যাবে না। বললে মুশকিল। আমাদের আলেম-ওলামাদের লোভের দোষ। বুচ্ছেন? আমরা লোভটা যদি কন্ট্রোল করতে পারতাম, তাহলে ওখানে রাত্রে থাকতামও না, আর শক্তিও থাকতো। কথা বুচ্ছেন? লোভ কন্ট্রোল করতে পারে নাই। আর অবিবেচনা এবং রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে ছিল সেই বিপর্যয়। তারপরেও আল্লাহর রহমতে এবং আহমদ শফি সাহেব হুজুরের মজবুতির কারণে আমরা আমাদের কওমি লাইনে এখনো টিকে আছি।’
-মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস।
-বিশ্বাসের বহুবচন, পৃষ্টা-৩০।

‘ ‘রাজনীতির শিকার’ কথাটিকে খুলে বললে যা দাঁড়ায়, আমার মনে হয় তা হলো, জামায়াত-বিএনপির কারসাজিতেই হেফাজত ৫ মে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল। আর এই অবস্থানের কারণেই হেফাজত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি যতদূর জানি, অবস্থানের পেছনে সূক্ষ্মভাবে বিএনপি-জামায়াতের ভূমিকা থাকতে পারে; কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সিদ্ধান্তের আলোকেই অবস্থানে যাওয়া হয়। আর তা ছাড়া আমি বিশ্বাস করি ৫ মে হেফাজতের পরাজয় হয়নি, পরাজয় হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। তাই যদি রাজনীতির শিকার হয়ে থাকে, হয়েছে আওয়ামী লীগ। শাপলার যে রক্ত আওয়ামী লীগের হাতে লেগেছে, সেটা মুছতে অন্তত একশ’ বছর লাগবে।’
-মাওলানা মামুনুল হক।’
-বিশ্বাসের বহুবচন, পৃষ্টা-২৪২।

‘দেখুন, সব কথা আমি আপনাকে খুলে বলতে পারব না। এককথায় বলে দিই। হেফাজতকে নিয়ে কিছু লোক যে রাজনৈতিক দেনা-পাওনার হিসাব করছিল, কিছু লোক যে আল্লামা আহমদ শফীর নাম ভাঙিয়ে এবং হেফাজতের মাথা বিক্রি করে রাজনৈতিক ধান্ধা করছিল; সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই।’
-মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।
-বিশ্বাসের বহুবচন,পৃষ্টা-২৪৮।

বইয়ে ‘শাপলাবাজি’ বলে লেখক খুব একটা বাড়িয়ে বলেননি। হেফাজতের ফ্রন্টলাইনের নেতা, কী-পার্সন, আই উইটনেসদের কাছ থেকে শাপলার ডবল স্ট্যান্ডবাজিও জানা যায়। আর শাহবাগবাজির কথা সর্বজনবিদিত। শব্দ বৃদ্ধি করলাম না।

এ বইয়ের মধ্যে আমার কাছে যেটা বেশী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হল লেখক এখানে নির্মোহ ভাবে সত্যকে উপস্থাপন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছেন এবং দ্বিতীয় দৃষ্টিতে প্রথম দৃষ্টিকে পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা করেছেন। লেখক হেফাজতকে নির্মোহ রেখে নেতৃত্বকে তৃতীয় দৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারের প্রশ্নগুলা ছিল কমন ও যৌক্তিক। তবে শাপলার কিছু লিডাররা উত্তর দিতে গিয়ে প্রজ্ঞা দেখাতে পারেননি। আবার ফ্রন্টলাইনের পলিটিক্স নেতারা উত্তর দিয়েছেন থার্টি ফাইভ সিক্সটি ফাইভ ফর্মুলায়। ৩৫% বলেছেন ৬৫% উহ্য রেখেছেন। গণজাগরণের বাপ্পাদিত্য বসুর সাক্ষাৎকার পাঠকের চেতনায় পিন ঢুকবে।

‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এর সবচে’ অনবদ্য অধ্যায় হলো শাপলার শহীদ ও আহতের খতিয়ান ও তালিকা। যে কাজ আজ পর্যন্ত হেফাজত করতে পারেনি সেই দুঃসাহসিক কাজ করেছেন লেখক। ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এ অন্তত একটা তালিকা, পরিসংখ্যান তো হয়েছে। শহীদ ও আহতদের বিয়োগান্তক, অন্তর্বেদী করুণ কাহিনী এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে।

‘বিশ্বাসের বহুবচন’ প্রকাশের পূর্বেই কিছু ‘দরবেশ’ পাঠক বইটি নিয়ে সমালোচনায় নেমে পড়ে। ‘দরবেশ’ বলার কারন হলো যারা বই না পড়েই সমালোচনা করে তাদেরকে ‘দরবেশ’ না বলে আর কিইবা বলতে পারি।
সেইসব দরবেশ পাঠকদের বিশাল অভিযোগ লেখক নাকি পলাশীর মূল খুনীদের মত শাপলার খুনীদের আড়াল করেছেন। তাদের অপরিপক্বতা অভিযোগেই বিদ্যামান। যে বইয়ে খুনীদের খুনের তালিকা করা হয়েছে সেই বইয়ে খুনীদের কেমনে আড়াল করা হয়!? আবার কোন কাহিনী বা বিষয়কে শুধু এক দৃষ্টিতে দেখলে হয়না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দৃষ্টিতেও দেখতে হয়। নতুবা সার নির্যাস বের হয়না। ভবিষ্যৎ উপাদান, নির্দেশনা থাকেনা। লেখক বইয়ে সব দৃষ্টিতেই শাপলা-শাহবাগকে চিত্রিত করেছেন। তবুও যারা অভিযোগ করেছেন মূল খুনীদের আড়াল করা হয়েছে তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি মূল খুনীদের অসংখ্যবার উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বলছি : আপনারা শুধু ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এর শাপলায় আহত-শহীদদের চ্যাপ্টার পড়ুন আপনাদের অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হবে। লেখক আহত-শহীদদের চ্যাপ্টারে মূল খুনীদের হিংস্রতা, পৈশাচিকতা, নির্লজ্জতা সাবলীলভাবে বর্ণনা করেছেন।
আবার কেউ কেউ নিজ দলের নেতার অদক্ষতা, অযোগ্যতা প্রকাশের ভয়ে বই সম্পর্কে বাজে সমালোচনা করেছেন। তাদেরকে একটি কথাই বলব : লেখক হেফাজত নেতাদের গায়ের দাগকে শুভ্রতা দিয়েছেন। পড়লেই অনুধাবন করতে পারবেন।

লেখক সবার বচনগুলা একত্রে জমাট করে ‘বিশ্বাসের বহুবচনের’ থালায় পসরা সাজিয়েছেন। সেখান থেকে ‘বিশ্বাসের একবচন’ বের করার দায়িত্ব লেখক পাঠকের হাতে সমর্পিত করেছেন। পাঠকের ‘একবচন’ বের করতে কোন বেগ পেতে হবে বলে মনে হয়না।

সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ আমার কাছে ইতিহাসের এক প্রাতিস্বিক গ্রন্থই মনে হয়েছে। এ বই ভিন্ন স্বাদের এক ইতিহাস গ্রন্থ। হেফাজত-গণজাগরণ নিয়ে হয়ত আরও অনেক লেখা হবে। ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ সেই হিসেবে পথিকৃৎ ও প্রথম সোপান।
তবে লেখক বইকে ইতিহাস গ্রন্থ বলে দাবী করেননি। লেখক বইকে কি বলেছেন তা লেখকের জবানেই শুনুন;
‘বিশ্বাসের বহুবচনকে একটি গবেষণামূলক বই ভেবে ভুল করার দরকার নেই। এটি কোন ঐতিহাসিক দলিলও হয়নি। প্রামাণ্য কোনো গ্রন্থও না। তাহলে এটি কী?
ভুলতে না পারা হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। এটি হলো ভুলতে না পারা বেদনার কাব্য। এটি হলো বিনাশী সভ্যতার উল্লাস নৃত্য। এটি হলো বুলেটপ্রুপ জ্যাকেট-জড়ানো প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ। এটি একটি পুতুলের গল্প ; যে পুতুল যেমনে নাচার, তেমনে নেচেছিল।’
-বিশ্বাসের বহুবচন,পৃষ্টা- ১৪।

এ মাতৃভূমির ঘোর লাগা, উত্তপ্ত ও অদ্ভুততম এক সময়ের এ পান্ডুলিপি, উপাখ্যান যারা এখনও পড়েন নি, তাদের নিমন্ত্রণ ।
শেকড়সন্ধানী ও অনুসন্ধিৎসু পাঠক মাত্রই বইখানি পড়া উচিৎ।

লেখক পরিচিতি :

রশীদ জামীলকে বহু অভিধায় অভিষিক্ত করা যায়। মুশকিল হলো কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব ভেবে পাচ্ছিনা। প্রায় ৩৫ টা পাঠকপ্রিয় বইয়ের রচয়িতা। প্রত্যেক বইয়ের আবার চার-পাঁচবার পুনঃমুদ্রণ হয়েছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের শ্রেষ্ট তরুণ কলামিস্ট হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত।
লেখক রশীদ জামীলের ব্যাপারে কিছু বলাই বাহুল্য । তার প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশের মতো উপযুক্ত বিশেষণ আমার জানা নেই। এই লেখকের ক্ষেত্রে আমার ফিলোসফিটা হলো তার লেখা দ্রুত পড়তে মন সাড়া দেয় না, ইচ্ছে হয় বইটা শেষ না করি । নতুন কোন বই আমার জন্যে লিখছেন লেখক, এমন কল্পনা নিয়ে সমাপ্তি দেই।
অসাধারণ সাহিত্য রসবোধ তার। কঠিনকে সহজ ও সাবলীল ভাবে উপস্থাপনে তিনি অতুলনীয়। সত্য প্রকাশে কাউকে তোয়াক্কা করেননা।
‘বিশ্বাসের বহুবচন’ পড়ার সময় কিছু কিছু জায়গায় বারবার থামতে হয়, খোলা জানলা দিয়ে বাইরের আকাশের দিকে চোখ চলে যায়। অজান্তে চোখের কোণে জমে যায় নোনাজল। কোথাও আবার নাড়িয়ে দেয় ভেতর। স্পর্শ করে হৃদয়ের অতলে। আর এটাই হলো লেখকের মুন্সিয়ানা। তবে লেখক ‘বিশ্বাসের বহুবচনে’ আরবী আয়াত/বাক্যগুলোর তরজমাসহ দিলে সর্বমহলের পাঠকের উপকার হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিটেইল আরো হওয়া উচিৎ ছিল। লেখক-প্রকাশক ‘বিশ্বাসের বহুবচন-২’ এর একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। হয়ত সেসব ডিটেইল ‘বহুবচন-২’ এ উন্মুক্ত হবে।
রশীদ জামীলের লেখা যেকোন বই চোখ বন্ধ করে হাতে তুলে নেয়া যায় । আর ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। একটা মাস্টার পিস।

কিছু বই আছে চায়ের দোকানে আড্ডা মেরে লেখা যায়। কিন্তু ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ এর মত বই আড্ডা মেরে লেখা যায়না। অনেক অনেক শ্রমসাধ্য কাজ। ‘বিশ্বাসের বহুবচন’ লিখতে গিয়ে লেখক অনেক কাঠখড় পাড়ি দিয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বইয়ের প্রতিটা পাতায় পাতায় লেখকের ঘামের চিহ্ন প্রতীয়মান হয়। এতো পরিশ্রম সাধ্য কাজের রাইটার রয়্যালিটির একটি পয়সাও লেখক নেননি। উৎসর্গিত করেছেন শাপলার শহীদ-আহত পরিবারে।
এরপরেও যারা বলেন লেখক নিজেকে আলোচিত করার জন্যে এমন বই লিখেছেন তাদের প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছুই নেই। তবে এসবের মূল কারন হচ্ছে কওমি অঙ্গনে সমালোচনাটা এখনও নান্দনিক হয়ে উঠেনি। লেখক এসবের উর্ধে উঠে কিছু করায় বালখিল্য কিছু কথায় জর্জরিত হন। তবে লেখক সমোলোচকদের এন্টিবায়োটিক শুভকামনা জানিয়েছেন বইয়ে।

পরিশেষে আমি লেখকের সার্বিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। মহান আল্লাহ যেন এই প্রিয় লেখককে শত-সহস্র বৎসর আমাদের মাঝে আলোকবর্তিকা হিসেবে জীবিত রাখেন প্রার্থনা করি।
রেটিং ; ৮.৪/১০