ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি রহ.

ইমাম জাইনুদ্দিন আবুল ফারজ আবদুর রহমান ইবনু শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনু রজব হাম্বলি রহ.। তিনি ৭৩৬ হিজরি মোতাবেক ১৩৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বাগদাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ৭৪৪ হিজরিতে নিজ বাবা আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমাদ রহ.-এর সঙ্গে দামেশকে আগমন করেন। সেখান থেকে শুরু হয় তার ইলম চর্চার ধারা। তিনি তার জীবনে জগদ্বিখ্যাত শাইখগণের থেকে ইলমের শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার শাইখগণের মধ্যে রয়েছেন—তার বাবা আল্লামা শিহাবুদ্দিন আহমাদ রহ., হাফিজ আলায়ি রহ., হাফিজ ইবনুল কায়্যিম রহ., ইবনু কাজিল জাবাল রহ., আল্লামা মুহাম্মাদ কালানিসি রহ., আল্লামা ইবনু আবদিল হাদি রহ.।
তার ছাত্রদের মধ্যেও রয়েছে ইতিহাসের অমর ব্যক্তিত্বগণ—হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানি রহ., আবদুর রহমান ইবনু আইয়াশ রহ., ইবনুল মুনসিফি রহ. এবং ইবনুল লাহহাম রহ. প্রমুখ।
ইবনু রজব হাম্বলি রহ. অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি এই—ফাতহুল বারি, শরহু ইলালিত তিরমিজি, জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম, জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ, লাতায়িফুল মাআরিফ, আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ, আল-ইসতিখরাজ লি আহকামিল খারাজ, আত-তাখউইফ মিনান নার ওয়াত তা‘রিফ বি হালি দারিল বাওয়ার, আহওয়ালুল কুবুর, ফাদলু ইলমিস সালাফ ‘আলা ইলমিল খালাফ (সালাফদের ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব), মা রাওয়াহুল আসাতিন ফি ‘আদামিল মাজিয়ি ইলাস সালাতিন (রাজদরবারে আলিমদের গমন : একটি সতর্কবার্তা) প্রভৃতি।
এই মহান ইমাম ১৩৯৩ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৭৯৫ হিজরি চতুর্থ রামাজানের রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। পরবর্তী দিন জানাযা শেষে মহান ফকিহ শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ শিরাজি মাকদিসি রহ.-এর পাশে, আল-বাবুস সাগির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আলী হাসান উসামা

৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি, দুটি পাতা ও একটি কুঁঁড়ির দেশ সিলেটে জন্ম। লেখাপড়া করেছেন রাজধানীর নামকরা দুটো প্রতিষ্ঠানে। অনন্যসাধারণ মেধাবী এ তরুণ আলিম ছাত্রজীবনে তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় হিফজ বিভাগে ১ম, ফজিলতে ১২তম এবং তাকমিল ফিল হাদিসে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে। এরপর দু-বছর সময় ব্যয় করেছেন ফাতওয়া বিভাগে।


শিক্ষা সমাপনের পর ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রবেশ করেন কর্মজীবনে। বর্তমানে এক স্বনামধন্য মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস পদে কর্মরত। পাশাপাশি ফাতওয়া বিভাগের সহযোগী মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, আলোচক ও খতিব হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন।


আলী হাসান উসামা সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের অন্যতম। ঈর্ষণীয় ইলমি যোগ্যতার পাশাপাশি তাঁর মধ্যে একত্র হয়েছে সহজ-সরল অসাধারণ রচনা ও অনুবাদ-দক্ষতা। ফলে স্বল্পসময়ে তিনি বেশ কয়েকটি বেস্টসেলার বইয়ের জন্য গুণীজনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সম্পাদনার অঙ্গনেও তাঁর রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। আলোকিত অঙ্গনে নিয়মিত পদচারণার মাধ্যমে নানারকম ইলমি কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সময়ের এই প্রতিভাবান তরুণ।


লেখকের ‘ফিতনার বজ্রধ্বনি’র পর দ্বিতীয় মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে ‘মুক্ত প্রাণের হে সন্ধানী’ বইটিও কালান্তরের বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় নাম উঠিয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর অনূদিত ও সম্পাদিত কয়েকটি বই কালান্তর থেকে বেরিয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।